cbn  

সিবিএন ডেস্ক:
কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির থেকে স্থানান্তর রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে ওআইসি-র একটি প্রতিনিধি দল ভাসানচরে পরিদর্শনে যাচ্ছেন। রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওআইসির সহকারী মহাসচিব ইউসেফ আলডোবেয়া নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলটির হেলিকপ্টার যোগে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসব তথ্য জানান ভাসানচর প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩) উপ-প্রকল্পের পরিচালক কমান্ডার এম আনোয়ারুল কবির।

তিনি জানান, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একজন সহকারী মহাসচিবের নেতৃত্বে ওআইসির একটি প্রতিনিধি দল রবিবার সেখানে পরিদর্শন করবেন। এসময় তাঁরা কক্সবাজারের থেকে স্বেচ্ছায় ভাসানচরে স্থানান্তর রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। এরপর বিকেলে সেখানে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দৌজা নয়ন জানান, ‘রবিবার সকালে ওআইসি’র একটি প্রতিনিধি দল ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করবেন। এসময় সেখানে স্থানান্তর হওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও কথা বলবেন তাঁরা। এরপর সেখান থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাবেন।’

এদিকে শুরুতে গত ৪ ও ২৯ ডিসেম্বর তিন হাজার ৪৪৬ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ২৯ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপের প্রথম অংশে এক হাজার ৭৭৮ জন এবং ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় অংশে এক হাজার ৪৬৩ জনকে ভাসানচরে নেওয়া হয় এবং চতুর্থ দফায় দুই দলে ৩ হাজার ২০ জন পৌঁছেন সেখানে। বর্তমানে ৯ হাজার ৭০৭ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে বসতি শুরু করেছেন। এছাড়া এরও আগে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে গত বছরের মে মাসে ভাসানচর নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আগে আশ্রয় নেওয়াসহ বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন। শরণার্থীদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •