সাইদুল ইসলাম ফরহাদ :
নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষের চলাচল কক্সবাজার শহরের অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা কলাতলী ডলফিন মোড় । বাজার ঘাটার পরই সবচেয়ে বেশি মানুষের পদচারণা থাকে সেখানে। দিন রাতের সবসময়ই গিজগিজ করে মানুষ। যে কলাতলী ডলফিন মোড়ে এত পথচারী অথচ সেখানে ফুটপাত ধরে হেঁটে চলাচল করার কোনো সুব্যবস্থা নেই।

দখলদারিত্ব থেকে মুক্তি পাচ্ছে না কলাতলী ডলফিন মোড় ফুটপাতগুলো। পুরো ফুটপাতজুড়েই গিজগিজ করছে দোকান। পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে নানা রকমের বাজার সাজিয়ে রেখেছে অবৈধ দখলদার। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার মতো পরিস্থিতি নেই সেখানে। তাই বাধ্য হয়ে পথচারীরা নেমে এসেছেন মূল সড়কে। যে কারণে যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সেই সঙ্গে তো থাকছে পথচারীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এলাকাজুড়ে ফুটপাতে দোকানের আধিক্য অসহনীয়। ফুটপাতগুলো সিগারেট এর দোকান, ফলের দোকান,ভ্রাম্যমান রেস্তোরাঁসহ হকাররা দখল করে ব্যবসা করলেও এর নেপথ্যে আছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কলাতলীর হকাররাও এসব সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। প্রতিদিনই চলছে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি। কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে তাদের এ আধিপত্য। যে কারণে বারবার উচ্ছেদ করার পরও দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না ফুটপাতগুলো।

ফুটপাত দখল করা হকারদের কোনোভাবেই ঠেকাতে পারছে না কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ। গত এক মাস আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর সংগঠন পজেটিভ বাংলাদেশ এই ফুটপাত দখলমুক্ত করলে কিন্তু বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আবারো গড়ে উঠেছে ফুটপাত।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার পর্যটক ডলফিন মোড়ের সামনের মূল সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পেছনেই সিএনজি অটোরিকশাচালক হর্ন বাজিয়ে বলছিলেন’ আপা একটু সাইড দিয়ে হেঁটে যান’। চালকের কথা শুনে রাফিয়া খাতুন বলছেন ‘কোথায় যাব? ফুটপাতে দোকান, রাস্তায় গাড়ি, বিপাকে আমাদের মতো পথচারী’।

কথা হয় রাফিয়া খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, পুরো কলাতলী ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই। সবগুলো ফুটপাতে অতিরিক্ত দোকান, তার মধ্যে মানুষের হেঁটে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এত ভিড় থাকে যেখানে পুরুষ মানুষই হাঁটতে পারে না আর আমরা মেয়ে মানুষ কীভাবে হাঁটব।

পথচারীদের চলাচলের জন্য থাকা ফুটপাতে কেন আপনাদের দোকান এমন প্রশ্নের জবাবে ডলফিন মোড়ের ফুটপাতের দোকানি বলেন, টাকা দিয়ে দোকান বসাইছি, আবার প্রতিদিন চাঁদাও দিতে হয়। মানুষও হাঁটুক আমাদেরও ব্যবসা হোক। ফুটপাতে দোকান না বসালে কই যামু, বাজারে দোকানঘর নেয়ার মতো তো পুঁজি নাই। তাই প্রতিদিন লাইনম্যানকে টাকা দিয়ে দোকান চালাই।

হকার সূত্রে জানা গেছে, শার্ট, প্যান্টের ছোট দোকানের জন্য প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আর জুতা ও আরেকটু বড় দোকানের জন্য ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় তাদের। কিন্তু এসব টাকা মূলত কাদের হাতে যাচ্ছে এর উত্তর দিতে নারাজ তারা। তাদের ভাষায় তারা শুধু লাইনম্যানকেই চেনে যারা এসে প্রতিদিন টাকা নিয়ে যায়।

পরিবেশবিদদের মতে, হাঁটার নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে পথচারীদের সংখ্যাই বেশি। অপর্যাপ্ত ও হাঁটার অনুপযোগী ফুটপাত এবং রাস্তা পারাপারের তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পথচারীদের আগ্রহ থাকার পরও তারা হাঁটতে পারছেন না। পথচারীদের হাঁটার পরিবেশ না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের মূল রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •