সিবিএন ডেস্ক: জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি সিঙ্গেল শট বা এক ডোজের কোভিড-১৯-এর টিকা নিরাপদ ও কার্যকরী বলে এক পর্যালোচনায় জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-এফডিএ। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

এফডিএর কাছ থেকে সবুজ সংকেত মেলায় কিছুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় করোনার টিকা হিসেবে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা অনুমোদন পেয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্নার টিকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে, ফাইজার ও মডার্নার টিকার সঙ্গে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার বড় পার্থক্য আছে। তা হলো-জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা সাধারণ রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা যাবে। এতে করে অন্য টিকাদ্বয়ের তুলনায় জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকাকে সাশ্রয়ী বলা চলে।

এর আগে গত মাসে টিকার ট্রায়াল পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল প্রকাশ করেছিল জনসন অ্যান্ড জনসন।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফার্মাসিউটিক্যাল জনসন অ্যান্ড জনসনের মালিকানাধীন বেলজিয়াম ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জানসেন জানিয়েছে, জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা গুরুতর আক্রান্ত কোভিড-১৯ রোগীর ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জানসেন এফডিএর কাছে টিকার ট্রায়ালের বিস্তারিত তথ্য জমা দেয়। এরপর নিজেদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে এফডিএ। তাতে দেখা যায়, করোনার উপসর্গ থাকা এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ওপর জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা প্রয়োগ করা হলে ইতিবাচক ফলাফল মিলবে।

যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার ট্রায়াল হয়েছে। তিন দেশের ট্রায়ালেই করোনার সবচেয়ে খারাপ পরিণতির বিরুদ্ধে ‘একইরকম উচ্চমাত্রার’ কার্যকারিতা দেখা গেছে। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে করোনার বিভিন্ন ধরন বা ভ্যারিঅ্যান্ট বেশি থাকায় এ দু্‌ই দেশের ট্রায়ালে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা সামগ্রিক সুরক্ষার মাত্রা ছিল তুলনামূলক কম।

জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গেছে এটি গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধে ৮৫ শতাংশ কার্যকরী। কিন্তু, সামগ্রিকভাবে যদি মাঝারি মাত্রার অসুস্থতা প্রতিরোধের ফলাফল এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তাহলে এই টিকা ৬৬ শতাংশ কার্যকরী। ফলাফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে টিকা দেওয়ার কমপক্ষে ২৮ দিন পরের ফলাফল বিবেচনা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার অনুমোদন দেবে কি না, তা নির্ভর করবে একটি পরামর্শক কমিটির পর্যালোচনার পর। আগামী শুক্রবার ওই বহিরাগত বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •