ক্যাপশন : লামায় বুনোহাতি কর্তৃক গুড়িয়ে দেয়া বসতঘরের একাংশ। -লামা প্রতিনিধি।

৫ বসতঘর তছনছ : বাগান ও ফসলের ক্ষতিসাধন

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা প্রতিনিধি :

বান্দরবানের লামা উপজেলায় একদল বন্যহাতি তান্ডব চালিয়ে তছনছ করে দিয়েছে উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি পুইট্টারঝিরি ও আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্বচাম্বী আমতলী পাড়ার ৫টি বসতঘর। এ সময় হাতির আক্রমণে নিহত হন রহিমা বেগম (২০) নামের এক বাক প্রতিবন্ধী। শুধু তাই নয়, এ সময় হাতিগুলো পদপিষ্ট ও খেয়ে কলা বাগান ও বীজতলার ক্ষতিসাধন করে। বুধবার রাতে ১৪-১৫টি হাতি তান্ডব চালিয়ে এসব বসতঘর তছনছ করে দেয়। বর্তমানেও হাতিগুলো ওই গ্রাম সংলগ্ন পাহাড়ে অবস্থান করায় আতংকে আছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গহিন পাহাড় থেকে একদল বন্যহাতি মঙ্গলবার দিনগত রাতে সরই ইউনিয়নের পুইট্টারঝিরি গ্রামে নেমে পড়ে। হাতিগুলো প্রথমে পাড়ার বাসিন্দা আবুল মিয়ার বসতঘর ভাংচুর শুরু করে। পরে একে একে মো. জাহাঙ্গীর, নুরুল কবির ও আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্বচাম্বী আমতলী পাড়ার বাসিন্দা সোলায়মান ও মফিজুর রহমানের বসতঘর ভাংচুর করে হাতির দলটি। এ সময় হাতি আক্রমনের টের পেয়ে সোলায়মানের মেয়ে বাক প্রতিবন্ধী রহিমা বেগম আতœরক্ষার জন্য ঘর থেকে বের হলে হাতির কবলে পড়েন। এতে হাতির আক্রমনে ঘটনাস্থলেই মারা যান রহিমা বেগম। একই সময় হাতিগুলো স্থানীয়দের ঘরে থাকা ধান, চাউল, বাগানের কলা গাছ খেয়ে ব্যপক ক্ষতি সাধন করে। এরপর আরব আলী ও মুসলিম উদ্দিনের কলা বাগান ও ধান ক্ষেত পদপিষ্ট করে বিনষ্ট করে দেয় হাতির দলটি।

হাতি আক্রমনের শিকার নুরুল কবির, জাহাঙ্গীর আলম ও সোলায়মান বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১৪-১৫টি বন্যহাতি গ্রামে ঢুকে পড়ে। এ কথা জানাজানি হলে লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। রাতে গ্রামের মানুষ এক ঘণ্টার জন্যও ঘুমাতে পারেনি। হাতি কখন কার বাড়িতে ঢুকে পড়ে, এই ভয়ে মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। তারা আরও বলেন, হাতিগুলো প্রথমে বাড়ির চারিদিকে ঘেরাও করে ফেলে। বিশেষ করে ঘরের দরজা জানালার পাশে পাহারাদারের মত দাঁড়িয়ে থাকে। আর ঘর ভাঙ্গা শুরু করে। পরে ঘরে থাকা ধান চাল খেয়ে ফেলে। রাতজেগে আগুনের কুন্ডুলি জ্বালিয়ে বাড়ি ঘর পাহারা দিয়ে হাতির আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্ঠা চালিয়েও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছেনা।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হারিছ মিয়া ও নাছির উদ্দিন জানান, অনেক ক্ষেত্রে রাত জেগে আগুন জ্বালিয়ে, ঢোল পিটিয়ে ও চিৎকার করেও বন্যহাতির দলকে সরানো যায় না। বেশি ভয় দেখালে গায়ের দিকে তেড়ে আসে হাতিগুলো। এ কারণে চেয়ে দেখা ছাড়া আমাদের পক্ষে কিছুই করার থাকেনা।

এদিকে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আলমগীর জানায়, হাতির আক্রমণে নিহত প্রতিবন্ধী যুবতীর লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্যহাতির তান্ডবে এক প্রতিবন্ধী যুবতী নিহত ও বসতঘর ভাংচুরের সত্যতা নিশ্চিত করে সরই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ উল্ আলম ও আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন একই সূরে বলেন, এখনো হাতিগুলো এলাকায় অবস্থান করায় লোকজন এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন। আবারও যে কোন মুহুর্তে তান্ডব চালিয়ে জান ও মালের ক্ষতিসাধন করতে পারে।

এ বিষয়ে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কায়চার জানান, উপজেলার সরই ও আজিজনগর ইউনিয়নের কয়েকটি পাড়ায় বন্যহাতির দল তান্ডব চালিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। হাতি দ্বারা নিহত প্রতিবন্ধী যুবতী ও ক্ষতিগ্রস্তদেরকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিধি মোতাবেক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •