cbn  

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
কোন নদীকে ভরাট করতে দেয়া যাবে না। মহেশখালীর কোহেলিয়া নদীকে ড্রেজিং করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীকে অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। তিনি কখনো নদী ভরাট করার নির্দেশনা দেননি। যারা নদী ভরাট করছে তারা আইনের চোখে অপরাধী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্যকারি।
বুধবার (২৪ ফ্রেরুয়ারী) কোহেলিয়া নদী সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এসব কথা বলেন।
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র সভায় এমপি কমল বলেন, নদীকে জীবন্তসত্তা বলা হয়েছে। পরিবেশ নষ্ট করে কোন প্রকার উন্নয়ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান না। তিনি নিজেও বলেছেন জলাশয়, নদী, খাল এইসব আমাদের কক্ষা করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখা যায় পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষো করে উন্নয়ন করা হচ্ছে। আমি কিছুদিন আগেও দার্জিলিং এ দেখেছি পাহাড় না কেটে কত সুন্দর ভবন নির্মাণ করেছে তারা। আমাদের বাংলাদেশে চাইলে এইভাবে কাজ করতে পারে। আমাদেও দেশ নদী মাতৃক দেশ তাই আমাদেও নদী বাচাঁতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদেও সাথে কথা বলে কোহেলিয়া নদী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সকলকে ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যকালে সাবেক নদী কমিশন চেয়ারম্যান মোঃ মুজিুবুর রহমান হাওলাদার বলেন,নদী ভরাট করে সড়ক নির্মাণ এটি ফৌজদারী অপরাধ। কোহেলিয়া নদী ভরাট করে উন্নয়ন কাজের জন্য সড়ক নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছে প্রয়োজনে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে তারপরে ও নদীর নব্যতা ও আগের কোহেলিয়া নদী আমরা দেখতে চাই । দেশের কোন নদী যেন কোহেলিয়া নদীর মতো ভরাট না হয় সেদিকে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে”
কক্সবাজারের মহেশখালীর মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে যেন মিশে রয়েছে কোহেলিয়া নদীটি। মহেশখালী দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে গিয়ে নদীটি বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। সেই অনাদিকাল থেকে মহেশখালীর বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের বেশির ভাগই কোহেলিয়া দিয়েই হয়ে আসছে। এখন নদীর তীর ভরাট করে রাস্তা তৈরির কার্যক্রম চলায় বড় নৌকাগুলো চলতে পারছে না। প্রাণ আর পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মহেশখালীর স্থানীয় পানচাষী ওসমান সরওয়ার বলেন, মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে কায়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে যাতায়াতের জন্য কোহেলিয়ার বুক ভরাট করে তৈরি হচ্ছে পাকা সড়ক। সাড়ে সাত কিলোমিটারের সড়কটির অন্তত পাঁচ কিলোমিটার পড়েছে নদীর তীরের অংশে। ৮০ ফুট প্রস্থের সড়কটি নির্মাণের জন্য নদীর তীরের কোথাও ৩০ ফুট, কোথাও আবার ৫০ ফুট করে ভরাট করা হয়েছে।
জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার প্রায় ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তত্ত¡াবধানে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার কোম্পানি।
লবণচাষী লিয়াকত আলী বলেন, একসময়ের খরস্রোতা এই নদীতে মাছ ধরতেন কয়েক শ মৎস্যজীবী। এখন তাঁরা বেকার।
স্থানীয় ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কোহেলিয়া নদীটি খননের। কিন্তু খনন না করে উল্টো ভরাট করায় জীবন-জীবিকার সংকটে পড়েছেন বহু মানুষ।
স্থানীয় মোসাদ্দেক আলী বলেন, মহেশখালীর লবণ, মাছ, শুঁটকি এই নদী দিয়ে কার্গো বোঝাই করে নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হতো। এখন তা-ও বন্ধ। নদীর দুই তীরে অন্তত ১ হাজার একর জমিতে উৎপাদিত হচ্ছে লাখ লাখ মণ লবণ। এ লবণ ভিন্ন পথে পরিবহনের ক্ষেত্রে চাষিদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে ।
প্রকাশ্যে নদী ভরাটের দৃশ্য দেখে মর্মাহত হয়ে জানিয়ে বাপা সেক্রেটারি শরীফ জামিল তার বক্তব্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নদীকে জীবন্তসত্তা ঘোষনা করেছেন । সেখানে এই কোহেলিয়া নদীকে মেরে উন্নয়ন কাজ করতে বলবেন না প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে কোহেলিয়া নদী ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নদী ভরাট করে উন্নয়নের কথা কখনো বলেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা সকারের পাশে থেকে দেশকে সুন্দর করতে কাজ করে যাচ্ছি। আর যারা সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে এমন কাজ করছে তাদের বয়কট করতে হবে । তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।বাপা এ কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
অনুষ্টানের শুরুতে কোহেলিয়া নদীর উপর গবেষণামূলক তথ্য তুলে ধরেন নদী গবেষক আরাফাত জুবাইর।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলণ (বাপা)কক্সবাজার জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারি কমিশনার মোঃ মোস্তফা জাবেদ, কোল পাওয়ার জেনারেশন লিঃ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আলম, কক্সবজার মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারি পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহেনা আক্তার পাখি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বাপা কক্সবাজার কমিটির সহসভাপতি মোর্শেদুর রহমান খোকন, মোঃ নেজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম নজরুল ইসলাম, মহেশখালী বাপা সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর, কক্সবাজার সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল বশর পারভেজ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •