সিবিএন ডেস্ক:
রোহিঙ্গা, কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও দৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ। সেজন্য টোকিও’র সঙ্গে সামগ্রিক অংশীদারিত্বকে (কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ) স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ-জাপান তৃতীয় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা করবে ঢাকা।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমরা সম্পর্ককে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ স্তরে উন্নীত করতে চাই। এজন্য আমরা আলোচনা শুরু করবো।’

উল্লেখ্য বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক আছে। ভারতের সঙ্গে ‘স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্কের থেকেও বেশি’ (বিয়ন্ড স্ট্র্যাটেজিক রিলেশনস) বর্তমানে বিদ্যমান আছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় দুদেশের সম্পর্ক কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপে উন্নীত করা হয়।

অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার জন্য জাপানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার প্রস্তাব করছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এ জন্য একটি যৌথ ফিজিবিলিটি স্টাডি করার বিষয়ে আমরা আলোচনা করবো।’

রোহিঙ্গা ইস্যু
দলে দলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।এ বিষয়ে সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে সরকার। মিয়ানমারের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো।মিয়ানমারে প্রচুর জাপানি বিনিয়োগ আছে। জাপানের এই সুবিধাজনক অবস্থানকে ব্যবহার করে প্রত্যাবাসনের জন্য আরও জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ করবে ঢাকা।

এ বিষয়ে একজন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাই এই সমস্যা সমাধানে জাপানের দৃঢ় উপস্থিতি এবং আরও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।’

কানেক্টিভিটি
বাংলাদেশের মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে চায় জাপান। এজন্য মাতারবাড়িতে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করছে দেশটি।

এ বিষয়ে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘জাপানের বিগ-বি উদ্যোগ আছে যা এখন অনেকটা ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।’

বাংলাদেশ যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে প্রস্তুত কিন্তু কোনও নিরাপত্তা বলয়ে যুক্ত হবে না জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ সেটিকে স্বাগত জানাবে।’ দেশীয় উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের বিনিয়োগ দরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ এখানে আসুক এটাই আমরা চাই—বলেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •