অনলাইন ডেস্ক: কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরার ডিরেক্টর জেনারেল মোস্তফা স্যোয়াগসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন ফেরত দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রীয় অনুমোদন না থাকায় মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম আবেদনটি ফেরত দেন। মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

আদালত আদেশে বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন নিতে হয়। সেরকম অনুমোদন না থাকায় আবেদনটি ফেরদ দেওয়া হলো।

মামলার বাকি আসামিরা হলেন— শায়ের জুলকার নাইম ওরফে সামি, নেত্র নিউজের সম্পাদক ও সুইডেন প্রবাসী তাসনিম খলিল এবং ড. কামাল হোসেনের জামাতা যুক্তরাজ্যের নাগরিক ডেভিড বার্গম্যান।

চ্যানেলটিতে প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিসটার’স মেন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ তথ্য প্রকাশের অভিযোগ এনে মামলার আবেদন করা হয়। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালত বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক মামলাটির আবেদন জমা দেন।

মামলার আবেদনভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন— শায়ের জুলকার নাইম ওরফে সামি, নেত্র নিউজের সম্পাদক ও সুইডেন প্রবাসী তাসমিম খলিল এবং ড. কামাল হোসেনের জামাতা যুক্তরাজ্যের নাগরিক ডেভিড বার্গম্যান।

মামলার আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অপপ্রচার চালিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধে লিপ্ত আছেন। তারা যৌথভাবে তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’ নামে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী ভুয়া মিথ্যা তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রচার করে। প্রতিবেদনটি ইউটিউবেও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়, যা দেশ-বিদেশে বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রের সুনাম ও মর্যাদার হানি ঘটিয়েছে।

আবেদনের আরও বলা হয়, আসামিরা তাদের এহেন অবৈধ ষড়যন্ত্রমূলক অবৈধ কার্যক্রমের দ্বারা দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, যা বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ১২৪/১২৪(এ)/১০৯/৩৪ ধারায় অপরাধ। যা সঠিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশিত আসামিসহ তাদের নেপথ্যের মদতদাতা, অর্থের যোগানদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারীদের নাম ঠিকানা উদঘাটনসহ উপযুক্ত আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •