সিবিএন ডেস্ক:
মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন। সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত দেশটির আরও দুই জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এদিকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে সোমবার প্রায় অচল হয়ে পড়ে মিয়ানমার। বন্ধ থাকে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জান্তা সরকারের হুমকি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর সোমবারই দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাইরের দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সামনে সমবেত হয় বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবারও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।

গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভরত এসব মানুষের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকার। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস ব্রাসেলসে বলেছেন, ‘আমরা দাঁড়িয়ে থেকে দেখার জন্য প্রস্তুত নই।’ কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যেসব ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত আছে সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে দেশটির দরিদ্র শ্রমিকদের আক্রান্ত করতে পারে এমন সব বাণিজ্য সীমিত করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে জোটটি।

এদিকে গত সোমবার মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সরকারের আরও দুই জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোয়ে মিয়ান্ট তুন এবং জেনারেল মং মং কিয়াও এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। এর আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলকারী সরকারের প্রেসিডেন্টসহ বেশ কয়েক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এছাড়া বিক্ষোভকারীদের ওপর মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং জাপান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও সেনা সরকারকে নিপীড়ন থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে আসিয়ান জোটকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। এই লক্ষ্যে সমর্থন আদায়ে জোটভুক্ত বিভিন্ন দেশে সফর শুরু করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। মিয়ানমার সংকট নিযে আসিয়ানের একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার প্রস্তাবে বেশ কয়েকটি সদস্য দেশের জোরালো সমর্থন থাকলেও কূটনৈতিক তৎপরতাও চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •