সিবিএন ডেস্ক:

বায়ু ও শব্দদূষণ, দুই-ই বেড়েছে কক্সবাজারেফাইল ছবি
বনায়ন ধ্বংস, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়িতে পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন ধুলার নগরীতে পরিণত হয়েছে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যান কেন্দ্র (ক্যাপস) সম্প্রতি দেশব্যাপী শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ে জরিপের কাজ করছে। এই জরিপে উঠে এসেছে, কক্সবাজারে বায়ুদূষণ তিন থেকে ৮গুণ বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

যদিও দূষণ কমাতে গত বছরের শুরুতে গাড়ি দিয়ে পানি ছিটানো শুরু করে কক্সবাজারে পৌরসভা।

জরিপের বিষয়ে ক্যাপসের পরিচালক ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রধান শহরের তুলনায় কক্সবাজারে বায়ুদূষণ বেশি। বায়ুর স্ট্যান্ডার্ড মান হলো ৬৫ মাইক্রোগ্রাম পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ পার কিউবিক মিটার। কক্সবাজারের ৭০টি স্থানে আমরা বাতাসে গড়ে ২৫০ মাইক্রোগ্রাম থেকে ৩০০ মাইক্রোগ্রাম পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ পেয়েছি।’

আরো ব্যাখ্যা দিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, ‘এই পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ হলো পার্টিকুলেট ম্যাটার বা শ্বাসযোগ্য ধুলা। এগুলো এমন ধরনের পার্টিকেল যা আমরা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করি। এই ধুলার ব্যাস ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার। এটা আমরা খালি চোখে দেখি না। একটা চুলকে কাঁচি দিয়ে কাটলে বা বল পয়েন্ট দিয়ে আঁকা ছোট বিন্দুর ২০ ভাগের ১ ভাগ।’

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ গাড়ি হলো টমটম বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এই গাড়ি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত না।এই ব্যাটারিচালিত গাড়িগুলো ভাঙাচোরা রাস্তায় প্রচুর ধুলা ছড়াচ্ছে। এছাড়া ধুলাবালির সঙ্গে প্রচুর সিসা বাতাসে ছড়াচ্ছে। সেখানেই ওয়েস্টও বাড়ছে।’

ধুলাবালি বাড়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দূষণের অনেকগুলো কারণ আছে। পুরো কক্সবাজারে বিভিন্ন ধরনের খোঁড়াখুঁড়ি বা ডেভেলপমেন্ট চলছে। সমুদ্র সৈকত থেকে বাতাসে অনেক সময় ধুলাবালি আসে, কিন্তু ন্যাচারাল কারণগুলো ছাড়িয়ে মানবসৃষ্ট কারণই কক্সবাজারে বায়ুদূষণের জন্য দায়ী’

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের ডলফিন চত্বর, সেখানে যে ডলফিনটা আছে সেটায় ধুলাবালি জমে একাকার হয়ে গেছে। এমন অবস্থা সেটা ডলফিন না কী, তা বোঝার উপায় নেই।’ ‍

তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজারে বায়ূ দষণের পাশাপাশি শব্দদূষণও বেড়েছে। কক্সবাজারে ৭০টি এলাকায় প্রায় ৮০ ভাগ সময়েই ৮৫ থেকে ৯৫ ডেসিবল শব্দ পেয়েছি। বাংলাদেশের শহর অঞ্চলগুলোতে ৫০ থেকে ৬০ ডেসিবল শব্দ থাকার কথা, সেখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ ডেসিবল শব্দ বেশি কক্সবাজারে।’

জানা যায়, শব্দ ও বায়ু দূষণের উৎস, পরিমাণ এবং ক্ষতিকারক দিকগুলো নির্ণয়ে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) দেশের ৮ বিভাগে কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় স্বয়ংক্রিয় বিভিন্ন যন্ত্রের সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ করে তারা। দুই দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে অংশ নেন ১৮ সদস্যের গবেষক দল। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। গত ৬ জানুয়ারি থেকে এই জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্য সব বিভাগে জরিপের কাজ শেষ হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •