শাহীন শাহ, টেকনাফ :

কক্সবাজারের সীমান্ত ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উপজেলা টেকনাফে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নানা গুজব ও সর্বশেষ উপজেলা হওয়ায় প্রথম সময়ে টিকা গ্রহণকারীরা সাড়া না দিলেও অল্প দিনের মধ্যে ব্যাপকভাবে সাড়া পাচ্ছে। ফলে টিকা নিতে ভীড় বাড়ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম প্রথম জনগণ টিকা নিতে আগ্রহ দেখায়নি। কিছুদিন পর পর্যায়ক্রমে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এরই প্রেক্ষিতে তিনটি বুথে রেজিস্ট্রেশনকৃত নারী পুরুষদের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে একটি মেডিকেল দলও। টিকা গ্রহণকারীর মাঝে পাশর্^ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে এ স্বাস্থ্য দল দ্রুত সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। একটি বুথে রেজিস্টেশন চলছে। পাশাপাশি একটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। প্রধান ফটকের পাশে, জরুরি বিভাগে ও অপরটি কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে বুথ তিনটি করা হয়। এসব বুথে নারী পুরুষ টিকে নিচ্ছেন। টিকা গ্রহণকারী ছৈয়দুল আমিন চৌধূরী জানান, টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার আধা ঘন্টা হয়েছে। কোনো ধরণের পাশর্^ প্রতিক্রিয়া নেই। সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সিনিয়র নার্স রিনি চাকমা জানান, প্রথম দিকে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা কম ছিলো। এ সংখ্যা কিছুদিনের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনের দিনগুলোতে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো জানান, টিকা গ্রহণকারীদের মাঝে এ পর্যন্ত কোনো সমস্য দেখা যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা প্রণয় রুদ্র জানান, প্রথম প্রথম সাড়া না পেলেও এখন নিয়মিত ভীড় করছে। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ শ লোকদের মাঝে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩ হাজার লোকদের মাঝে টিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪ হাজার টিকা আগ্রহী রেজিস্ট্রেশন করেছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনেই তাদের টিকা দেওয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা।

টেকনাফ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল মুঠোফোনে জানান, সুন্দর সুশৃঙ্খলভাবে রেজিস্ট্রেশনকৃত আগ্রহীদের মাঝে প্রথম টিকা দেয়া হচ্ছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫০ জন নারী পুরুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৪ হাজার ১শ। এ সংখ্যা আরো দিন দিন বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •