কাশ্মিরের জনগণ আত্মত্যাগের ইতিহাস রচনা করছেন প্রতিদিন

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৯:০৭

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


ইউরোপিয় পার্লামেন্টের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে আজ বুধবার কাশ্মিরের জনশূন্য রাস্তায় পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় বাহিনী।
cbn  

আবদুর রহমান খান

ভারতের বিজেপি সরকারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ তাদের কাংখিত আত্ম-নিয়ন্ত্রনের অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস রচনা করছেন প্রতিদিন।

সম্প্রতি কাশ্মির মিডিয়া সার্ভিসের এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে, কাশ্মিরী জনগণ গত ৭০ বছর ধরে তাদের মাতৃভুমিকে ভারতের অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে আব্যাহত লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত হবার পর ভারত কাশ্মীরকে দখলে নিয়ে এ যাবত চার লক্ষের ( ৪,০০,০০০ ) বেশি কাশ্মীরীকে শহীদ করেছে।

এ প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কাশ্মীরের মুক্তিকামী জনতাকে দমিয়ে রাখতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ১৯৮৯ সাল থেকে এবছর জানুয়ারী মাস পর্যন্ত গত ৩১ বছরে এক লক্ষ নিরাপরাধ কাশ্মিরী নাগরিককে হত্যা করেছে। এদের মধ্যে ৭,১৫৫ জনকে নিরাপত্তাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় অথবা ভুয়া এনকাউন্টারের নামে হত্যা করা হয়েছে।

এ সময়ের মাঝে আরও আট হাজারের বেশি নাগরিককে গুম করা হয়েছে; প্রায় ২৩ হাজার নারীকে বিধবা করা হয়েছে; ১,০৮,০০০ শিশুকে পিতৃহীন করা হয়েছে; ১১,২২৬ জন নারী দলবদ্ধ ধর্ষন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘেরাও তল্লাশি এবং দমন অভিযানের নামে এ সময় নিরাপত্তাবাহিনী ১১০,৩৮৩ ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে।

গত ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট কাশ্মিরের বিশেষ অধিকার খর্ব করার পর কারফকিউ এবং লকডাউনের টানা অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে ৩০৫ জন কাশ্মিরিকে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এ যাবত রিজার্ভ পুলিশের নিক্ষিপ্ত পিলেটে ১০, ৮৪০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চোখে পিলেট বিদ্ধ হয়ে ১৪০ জন অন্ধ হয়ে গেছেন আর ২,৫০০ জন গুরুতর জখম নিয়ে বেঁচে আছেন।

ভারতীয় বাহিনীর ভয়াবহ এসব নির্যাতন কাশ্মিরীদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মোটেই দমিয়ে রাখতে পারেনি বরং তারা তাদের সংগ্রামকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে উল্লেখ করেছে কাশ্মির মিডিয়া সার্ভিসের এ প্রতিবেন।

এ প্রতিবেদন বলা হয়েছে, কাশ্মীরের জনগণ, বিশেষ করে যুবকগণ উষ্ণ রক্ত বিসর্জন দিচ্ছেন তাদের মাতৃভুমিকে ভারতের দখল থেকে মুক্ত করার পবিত্র যুদ্ধে। মোদী সরকার বন্দুকের জোরে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে এসব মুক্তিকামী কাশ্মিরিদের সংগ্রামকে শেষতক রুখে দিতে পারবেনা।

এ প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ভারতের দখল থেকে মুক্ত হবার জন্য কাশ্মিরী জনগনের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করে। নির্মম দমন অভিযান বন্ধ করে দিল্লীকে অবশ্যই কাশ্মীরি জননগণের সাহসি সংগ্রামের কাছে আত্মসমর্পন করতে হবে।

অধিকৃত জম্মু কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনী যে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রেখেছে তা বিশ্বের শান্তিকামি মানুষদের প্রতি চরম হুমকি স্বরুপ। এ অবস্থায় ভারতের হাত থেকে কাশ্মীরের মুক্তি নিশ্চিত করা এবং কাশ্মির সমস্যা যাতে আর দির্ঘায়িত না হয় সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছে কাশ্মিরের জনগন।

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টারি দলের সফর এবং হরতাল

এদিকে, ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিশ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের কাশ্মীর সফর কর্মসুচীর প্রতিবাদে আজ বুধবার কাশ্মীরে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। সর্বদলিয় হুররিয়াত কনফারেনস এবং অপরাপর মুক্তিকামী সংগঠনসমূহের আহবানে এ হরতাল পালিত হয়েছে।

কড়া সরকারি নিরাপত্তার মাঝে দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়, রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং বিভিন্ন স্থানে কাল পতাকা উত্তোলন করা হয়। ইউরোপিয় প্রতিনধিদলের উদ্দেশ্যে “রক্তাক্ত কাশ্মীরে স্বাগতম” লেখা ব্যানার ঝুলান হয় সড়কের পাশে।

এ ছাড়া, বাদগাম জেলা উন্নয়ন কমিটির যে সকল সদস্য সফররত ইউরোপিয়ান পার্লানেন্টারি প্রতিনিধি দলের সাথে আজ দেখা করার কথা ছিল , তাদেরকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে, বাইরে বের হতে দেয়া হয়নি।

জেলা উন্নয়ন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নাজির আহমেদ যাহরা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ন্যাশনাল কনফারেন্স ভুক্ত ছয়জন সদস্যকে শহরের একটি হোটেলে আটক রাখা হয়। পিপলস এলাইন্সভুক্ত সদস্যদের তাদের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে গত তিনদিন ধরে। নাজির আহমেদ যাহরা জানান ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সফরকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরের জেলা উন্নয়ন কমিটির সদস্যদে সাথে চোরের মত আচরণ করা হচ্ছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •