এম.মনছুর আলম, চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিগত দুইমাস ধরে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন্থ ঈদমনি লালব্রীজ এলাকায় জমির শ্রেণি পরির্তন করে স্কেভেটর দিয়ে পুকুর খনন করে মাটি উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ডের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে এতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় মূলহোতারা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একজন শ্রমিককে আটক করা হয়। এসময় জব্দ করা হয়েছে মাটি খনন কাজে ব্যবহৃত দুটি স্কেভেটর ও বালি পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ডাম্পার গাড়ি। পরে আটক শ্রমিককে মুছলেখা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
বুধবার (১৭ফ্রেব্রুয়ারী) দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন্থ লালব্রীজ  এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. তানভীর হোসেন।
অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথে ছিলেন পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবুল মনছুর আহমদ, চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইন উদ্দিন তালুকদার,  সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স, আনসার, ভূমি অফিসের বিভিন্ন কর্মচারী ও শ্রমিক।
জানাগেছে, উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন্থ ঈদমনি লালব্রীজের অদূরে
বিগত দুইমাস ধরে ফসলি ও সমতল শ্রেণীর জমির মাটি পরিবর্তন করে স্কেভেটর দিয়ে পুকুর খনন করে যাচ্ছে। প্রতিদিন শত শত গাড়ি মাটি অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেট চক্ররা স্কেভেটর দিয়ে ২০ ফুটের বেশি গভীরে গিয়ে গর্ত করে  তোলা হচ্ছে মাটি। এতে ওই এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন শত শত গাড়িতে করে মাটি পরিবহনের কারণে উপকূলীয় আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপরে কাদামাটি পড়ে সড়কে ক্ষত ক্ষত জমাট বেধেছে। ঈদমনি গ্রামের মানুষ ধুলোর যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মূলহোতারা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একজন শ্রমিককে আটক করা হয়। এসময় জব্দ করা হয়েছে পুকুরের মাটি খনন কাজে ব্যবহৃত দুটি স্কেভেটর ও বালি পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ডাম্পার গাড়ি।
একইদিন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএমচর ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা চলাচলে বাঁধায় বিঘ্ন ঘটায় জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত ও বেশকিছু খাস খতিয়ানভুক্ত জমি চিহ্নিত করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. তানভীর হোসেন বলেন, ঈদমনি লালব্রীজ এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে
মাটির ভূ-গর্ভস্থ থেকে মাটি উত্তোলনের মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খননের মাধ্যমে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালানোর খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় জড়িত মূলহোতারা পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে এক শ্রমিককে আটক করা হয়। এসময় জব্দ করা হয়ে দুটি স্কেভেটর ও  অবৈধভাবে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ডাম্পার গাড়ি।
তিনি আরও বলেন, আটক শ্রমিককে মুছলেখা মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর আবারো অপতৎপরতা শুরু করলে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা এ পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের শনাক্ত করে পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •