cbn  

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

আগামী রোববার ১৪ ফেব্রুয়ারী ও সোমবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২ দিনে আরো ৩ হাজার রোহিঙ্গা শরনার্থীকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ থেকে ভাসানচরে এটি হবে চতুর্থ দফায় রোহিঙ্গা শরনার্থী স্থানান্তর। সংশ্লিষ্ট সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভাসানচরে নিয়ে যেতে শুক্রবার ১২ ফেব্রুয়ারী ১৫টি মিনিবাস ও মাল বহনকারী ৮টি ডাম্পার ট্রাকের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প থেকে প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে নিয়ে আসা হয়েছে ট্রানজিট পয়েন্ট উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে। শুক্রবার যেসব রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে নেওয়ার জন্য ট্রানজিট পয়েন্টে আনা হয়েছে, সেগুলো হলো-বালুখালী ক্যাম্প নম্বর-৮ পূর্ব, ৯, ১০, ১১, ১২, ও ১৮ নম্বর ক্যাম্প। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের এই দলটি কাল রোববার ভাসানচরের উদ্দ্যেশে বাসে করে রওনা দিয়ে চট্টগ্রাম যাবে। সেখান থেকে সমুদ্র পথে জাহাজে করে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।

পরশু সোমবার ১৫ ফেব্রুয়ারী কুতুপালং-১ ইস্ট, ২ ইস্ট, এবং ২ ওয়েস্ট ক্যাম্প থেকে আরও প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা শরনার্থীর পৃথক একটি দল ভাসানচরে রওনা দেবে। তাদেরকে আজ শনিবার বিকেলে ক্যাম্প থেকে ট্রানজিট পয়েন্ট উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আনা হবে।

ক্যাম্পের একজন মাঝি জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় ক্যাম্প ইনচার্জের নিকট ভাসানচরে যেতে আগ্রহীদের তালিকা যারা জমা দিয়েছিল, তারা কাল ও পরশু ভাসানচরে যাচ্ছে। চতুর্থ দফায় দুইদিনে রোহিঙ্গাদের বিশাল বহর স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

এর আগে তিন দফায় প্রায় ১১ হাজার রোহিঙ্গা শরনার্থীকে ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে। আবার সমুদ্র পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যেতে নাপেরে ৩০৬ জন রোহিঙ্গা শরনার্থীকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে।

উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত ৩৪ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কমপক্ষে এক লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে স্থানান্তর করার টার্গেট রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সুত্রমতে, আগামী ফেব্রুয়ারীর শেষ সপ্তাহে ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আরো একটি দল উখিয়া-টেকনাফ এর শরনার্থী ক্যাম্প থেকে পঞ্চম দফায় ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা শরনার্থীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অধীনে পৃথক একটি থানা প্রতিষ্ঠা করেছে ভাসানচরে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •