cbn  

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:
আতঙ্ক কাটিয়ে পার্বত্য রাঙামাটি জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনার টিকা নেওয়ার সংখ্যা। গত ৭ই ফেব্রুয়ারী থেকে ৯ই ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত রাঙামাটি জেলায় সর্বমোট ২০০৬ জনকে টিকা দিয়েছে রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত তিন দিনে রাঙামাটি সদরে ৩৯৯, বাঘাইছড়ি-৩০৬, বরকল-৩২১, বিলাইছড়ি-১০০, জুড়াছড়ি-৭৭, লংগদু-১৪০, কাউখালী-১৩৮, কাপ্তাই-৩৪৬, রাজস্থলী-১০৯ ও নানিয়ারচর উপজেলায় ৭০ জনসহ সর্বমোট ২০০৬ জনকে করোনার টিকা প্রদান করেছে রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ। সংশ্লিষ্ট্যদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এই টিকা নেওয়ার পর এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো পাশর্^প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হবার খবর স্বাস্থ্য বিভাগ পায়নি।
এদিকে রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডাঃ মোস্তফা কামাল আপাতত ৫-৬ দিনের মধ্যেই প্রথম পর্যায়ের ৬ হাজার টিকা প্রয়োগ করার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আমরা প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত ১২ হাজার টিকার ডোজকে দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছি। প্রথমপর্যায়ে আমরা ৬ হাজার টিকা প্রয়োগ করবো, যারা এই টিকা নিয়েছেন, তাদেরকে আগামী একমাস পর আবারো দ্বিতীয় পর্যায়ে টিকা প্রয়োগ করার জন্য কার্ডের মাধ্যমে তারিখ নির্ধারন করে দেওয়া হয়েছে।
রাঙামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শওকত আকবর খান জানিয়েছেন, প্রথমদিন ভ্যাকসিন নেওয়ার সংখ্যা কিছুটা কম হলেও প্রতিদিনই ক্রমান্বয়ে হাসপাতালে টিকা নিতে আসা লোকজনের সংখ্যা বাড়ছে। তৃতীয় দিনে আমরা সারাদিনে প্রায় তিনশো জনকে টিকা দিয়েছি। একদিন আগে সেই সংখ্যাটা ছিলো মাত্র ৭৫ থেকে ৮০ জনের। তিনি জানান, অনেকেই রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া আসছে এবং বয়সও আমাদের টার্গেটের মধ্যে নেই। তাই একটু সমস্যা হলেও আমরা বিষয়টি ম্যানেজ করে নিচ্ছি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট্য সূত্রে জানাগেছে, টিকা নেওয়াদের মধ্যে কিছু কিছু ব্যক্তির প্রথমদিনে জ¦র আসলেও বড় ধরনের কোনো পাশর্^প্রতিক্রিয়ার কেউ আক্রান্ত হননি।
রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা জানিয়েছেন, কোনো প্রকার বিভ্রান্তিমূলক গুজবীয় তথ্যে আতঙ্কিত নাহয়ে সকলের উচিত নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকা নেওয়া। তিনি জানান, নিজে সুরক্ষিত হলে দেশ সুরক্ষিত হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন জানান, রাঙামাটি জেলায় করোনা টিকাদানে সর্বমোট ৪১ টিম কাজ করবে। তার মধ্যে রাঙামাটি সেনা রিজিয়নের অধীন সিএমইচ-এ ৪টি, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ৮টি, জরুরী ২টিসহ প্রত্যোক উপজেলায় ৩টি করে টিম কাজ করবে। সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, প্রত্যেক টিমে ২জন টিকাদানকারি আর ৪ জন ভোলান্টিয়ারসহ মোট ৬ জন সদস্য থাকবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •