cbn  

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এর ৩৪ টি রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে আশ্রিত প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে কোভিড-১৯ এর টিকা দেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন বলে জানিয়েছেন-কক্সবাজারস্থ আরআরআরসি অফিসের বিশ্বস্ত সুত্র।

কক্সবাজার আরআরআরসি অফিসের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. তোহা ভূঁইয়া বলেছেন-রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে কর্মরত সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আইএনজিও, এনজিও এবং অন্যান্য রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প সহায়ক কাজে নিয়োজিতদের তালিকা তৈরী করে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। তালিকার রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ১৪০৯১ জনের তালিকা তৈরী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন-ডা. তোহা ভূঁইয়া। যাঁরা রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আসবেন তাঁদেরকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারী সোমবার থেকে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়া শুরু করা হবে বলে প্রাথমিকভাবে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। পরে প্রয়োজন হলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের ফিল্ড হাসপাতাল গুলোতেও কোভিড-১৯ এর টিকাদান কেন্দ্র খোলা হবে ধারণা দিয়েছেন-কক্সবাজার আরআরআরসি অফিসের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. তোহা ভূঁইয়া।
তবে সরকারের ১৫ ক্যাটাগীরর উদ্দিষ্ট নাগরিকের তালিকায় কোভিড-১৯ টিকার অগ্রাধিকার পাওয়া অতিরিক্ত আরআরআরসি (জ্যেষ্ঠ উপসচিব) মোঃ শামসু দ্দৌজা, স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. তোহা ভূঁইয়া সহ অনেকেই ইতিমধ্যে কোভিড-১৯ টিকার প্রথম ডোজ গ্রহন করেছেন। আবার কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরনার্থীরা অগ্রাধিকার পেতে সরকারের নির্ধারিত ১৫ ক্যাটাগরীর মধ্যে নেই। এই টিকা গুলো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত উদ্দিষ্ঠ শুধুমাত্র স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য।

এদিকে, গত ৩১ জানুয়ারী ৮৪ হাজার ডোজ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন কক্সবাজারে আনা হয়েছে। কক্সবাজারে আনা করোনার ভ্যাকসিন গুলো ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড আ্যাষ্ট্রাজেনের “কোভি শিল্ড” টিকা।
কক্সবাজারে আনা ৮৪ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিনে ৮ হাজার ৪০০ ভায়াল রয়েছে। প্রতিটি কার্টনে এক হাজার ২০০ ভায়াল টিকা আছে। প্রতিটি ভায়ালে টিকা রয়েছে ১০ ডোজ। সে হিসাবে কক্সবাজারের ৪২ হাজার নাগরিককে করোনা ভাইরাসের এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে। একজন নাগরিককে ২ ডোজ করে করোনা ভাইরাসের এই টিকা দিতে হবে। এক ডোজ টিকা দেওয়ার ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে হবে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরনার্থী রয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ। কিন্তু কক্সবাজারে আনা ৮৪ হাজার ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন শুধুমাত্র ৪২ হাজার নাগরিককে দেওয়া যাবে।

সরকারের একটি সুত্র মতে, জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা ডাব্লিউএইচও (WHO) এর মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর টিকা আমদানী করে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের প্রয়োগ করা হবে। এ বিষয়ে একটু সময় ক্ষেপন হলেও ডাব্লিউএইচও বিশ্বব্যাপী যাচাই-বাছাই করে অধিকতর গুনগত মানসম্পন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দিয়ে মানবদেহে প্রয়োগের জন্য উত্তীর্ণ হওয়া কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আমদানীর চিন্তাভাবনা করছে বলে সুত্রটি জানিয়েছে।

এদিকে, ৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত শরনার্থী ক্যাম্প গুলোতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মোট ৩৯০ জন রোহিঙ্গা। তারমধ্যে ১০ জন রোহিঙ্গা মৃত্যুবরণ করেছেন। সুস্থ হয়েছেন ৩৬৩ জন রোহিঙ্গা।

প্রসঙ্গত, মাত্র ৬৫০০ একর জমিতে প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থী গাদাগাদি করে বসবাস করলেও এখনে কোভিড-১৯ সংক্রামন প্রতিরোধ ছিলো খুবই সাফল্যজনক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •