জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী :
কক্সবাজার সদরের পোকখালীতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে লবণ মাঠ দখলে নেমেছে প্রভাবশালী ভূমিদস্যূ চক্র। এনিয়ে ভূক্তভোগি আনসার কমান্ডার আমান উল্লাহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু কোথাও যেনো সমাধান নেই! আদালতের পক্ষ থেকে দেয়া ১৪৪ ধারা অমান্য করে কিভাবে ওই প্রভাবশালী চক্রটি দিনদুপুরে লবণের মাঠে কাজ করে! এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমাধান চান ভুক্তভোগি আমান উল্লাহ।
আদালত সূত্রে জানাগেছে, কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে দায়ের করা এম.আর মামলা নং- ১৪৩১/২০২০ ইংরেজী ফৌজদারি কার্য বিধি ১৪৪ জারি করা হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর ২০২০ ইংরেজী তারিখে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলি ওই বিরোধীয় জায়গায় এ ১৪৪ জারি করেন। জায়গা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওই বিরোধীয় লবনের মাঠে কেউ নামতে পারবে না। কেউ আইন অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ওই আদেশ কপিতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এ আদেশ অমান্য করে বেপরোয়াভাবে দিনদুপুরে ওই জায়গায় কাজ করে যাচ্ছে প্রভাবশালী চক্রটি। যেনো দেখার কেউ নেই!
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের উত্তর গোমাতলীর ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বশির আহমদের ছেলে আমান উল্লাহর জায়গা জবর দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি ভূমিদস্যূ চক্র। এ চক্রের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে পোকখালী ইউনিয়নের উত্তর গোমাতলী এলাকার মৃত সাহাব মিয়ার ছেলে আব্দুল হক গুরা মিয়া, আব্দুল্লাহ, ও ইয়াসিন উল্লাহ।
তারা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে অসহায় আনসার কমান্ডার আমান উল্লাহর লবনের মাঠে চাষ করে ওই লবন বিক্রি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৪৪ ধারা জারি থাকার পরেও প্রভাবশালীরা বেপরোয়া হয়ে ওই বিরোধীয় জায়গায় প্রতিনিয়তে কাজ করছে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে আমান উল্লাহ আইন আদালতে আশ্রয় নিলে প্রতিপক্ষ প্রভাবশালীরা তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণ-নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এ বিষয়টি তিনি ঈদগাঁও থানায় অবগত করেছেন বলে জানান। তারপরও প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখভাল করছে না বলে তিনি মন্তব্য করছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলি এ বিরোধীয় জায়গার বিষয়ে সরেজমিন তদন্তর্পূবক মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সহকারি কমিশনার (ভূমি) কক্সবাজার সদরকে নির্দেশ দেন। আর শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য কক্সবাজার সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে আইন শৃংখলা রক্ষায় দায়িত্বরত পোকখালী ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার মোহাম্মদ আমান উল্লাহ জানান, ওই ভূমিদস্যূগণ ১৪৪ ধারা অমান্য করে মাঠে লবণ চাষ করছে এবং সেই লবণ অবৈধভাবে বিক্রি করারও পাঁয়তারা করছে। অথচ প্রশাসন চুপ হয়ে বসে আছে। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বিরোধীয় জায়গা দখলবাজদের হাত থেকে উদ্ধারের ব্যাপারে আমি আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •