cbn  

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার জেলায় করোনার ভ্যাকসিন নিতে সরকার নির্ধারিত ক্যাটাগরীতে থাকা আগ্রহীদের আগামী শুক্রবার ৫ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। নির্ধারিত www.surokkha.gov.bd এ্যাপে গিয়ে, রেজিস্ট্রেশন করে ভ্যাক্সিন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সকল কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারেও রেজিস্ট্রেশন ‌কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সুত্রমতে, বুধবার ৩ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সরকারের নির্ধারিত উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ১৫ ক্যাটাগরীর তালিকা থেকে কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার জনের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। এরমধ্যে করোনার ভ্যাকসিন নিতে সরকারি ক্যাটাগরীতে থাকা আগ্রহীদের মধ্যে কতজন রেজিষ্ট্রেশন করেছেন-তা সুত্রটি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে। তবে অন্য একটি সুত্র মতে, কক্সবাজার জেলায় একইসময় প্রণীত তালিকার সংখ্যার তুলনায় রেজিস্ট্রেশন করেছেন একেবারে কম। যা হতাব্যঞ্জক। আগামী ২ দিন রেজিষ্ট্রেশন এর এ সংখ্যা হয়ত একটু বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন।

কক্সবাজার জেলা সদরে তিনটি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে জেলা সদর হাসপাতাল, কক্সবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজকে কক্সবাজার জেলার করোনা ভাইরাসের টিকাদান কেন্দ্র করা হয়েছে। এরমধ্যে, মানবদেহে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য ৮ টি প্রশিক্ষিত টিম জেলা সদর হাসপাতালে, ৪টি টিম কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে এবং সিভিল সার্জন অফিসে ২ টি টিম কাজ করবে।

এছাড়া, রামু সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৪ টি টিম, জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি টিম এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে টিম মানবদেহে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য করবে। এছাড়া, যেকোন সময় কাজ করতে পারে, সেরকম আরো কিছু প্রশিক্ষিত টিম স্টেনবাই রাখা হচ্ছে।

কক্সবাজারে আগামী রোববার ৭ ফেব্রুয়ারী উদ্বোধন করা হবে মানবদেহে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের এই কর্মসূচী। উদ্বোধনী দিনে টিকাদান কর্মীদের ভ্যাকসিন দিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান (পিপিএম), সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অনুপম বড়ুয়া, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার ডা. রফিক উস সালেহীন, জেলা ইপিআই সুপার সাইফুল হক প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। জাতীয় গাইডলাইনের আলোকে কক্সবাজার জেলা কমিটি উদ্বোধনের এ দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছে।

এদিকে, গত ৩১ জানুয়ারী ৮৪ হাজার ডোজ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন কক্সবাজারে আনা হয়েছে। বেক্সিমকো ফার্মার একটি কাভার্ড ফ্রিজার ভ্যানে করে এসব ভ্যাকসিন আনা হয়। করোনার ভাইরাসের এই ভ্যাকসিন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের পশ্চিমে কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সংলগ্ন সিভিল সার্জন অফিসের ইপিআই স্টোরে নির্ধারিত তাপমাত্রায় রাখা হয়েছে। কক্সবাজারে আনা করোনার ভ্যাকসিন গুলো ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড আ্যাষ্ট্রাজেনের “কোভি শিল্ড” টিকা। এসব করোনা ভ্যাকসিনের নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশও মোতায়েন রাখা হয়েছে।

৮৪ হাজার ডোজ করোনা ভাইরাসের টিকাতে ৮ হাজার ৪০০ ভায়াল রয়েছে। প্রতিটি কার্টনে এক হাজার ২০০ ভায়াল টিকা আছে। প্রতিটি ভায়ালে টিকা রয়েছে ১০ ডোজ। সে হিসাবে কক্সবাজারের ৪২ হাজার নাগরিককে করোনা ভাইরাসের এই টিকা দেওয়া যাবে।

একজন নাগরিককে ২ ডোজ করে করোনা ভাইরাসের এই টিকা দিতে হবে। এক ডোজ টিকা দেওয়ার ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে হবে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ক্যাটাগরীর নাগরিকগণকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা ভাইরাসের এই টিকা দেওয়া হবে। তারা হলো : সকল সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সকল সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, স্বাস্থ্য কর্মী, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য বিভাগীয় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, মেডিকেল কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেনাবাহিনী সহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল সদস্য, বিজিবি, পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, গণমাধ্যম কর্মী, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়োজিত, রাষ্ট্র পরিচালনার নিমিত্তে অপরিহার্য সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবাদানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, অনুমোদিত বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, স্বাস্থ্য কর্মী, জনপ্রতিনিধি সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকগণ, ধর্মীয় প্রতিনিধি, ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণসহ যারা করোনা ভ্যাক্সিন দেওয়ার জন্য যারা তালিকা পাঠিয়েছেন, করোনার সম্মুখযোদ্ধা সহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত স্টাফ এবং ৫৫ বছরের উর্ধ্ব বয়সী নাগরিকগণ।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারী ও ১ ফেব্রুয়ারী জেলার ৮টি উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সহ প্রতি উপজেলা থেকে ৫ জনকে মানবদেহে করোনা ভাইরাসের টিকা প্রয়োগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এরপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা জেলার টেকনেশিয়ান, নার্স, উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার পরিকল্পনা ভিজিটর সহ সংশ্লিদের প্রশিক্ষণ দেবেন। সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধনের মাধ্যমে যাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, তাদের শরীরে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানাদিক বিশ্লেষণসহ হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

 

সুরক্ষা : কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করুন
surokkha.gov.bd