cbn  

আবুল কাসেম আশরাফ

আজ ১লা ফেব্রুয়ারি বিশ্ব হিজাব দিবস।বিগত বছরের ন্যায় আজকেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিশ্ব হিজাব দিবস পালিত হচ্ছে।

এই দিবসটি বিশ্বময় উদযাপন করার ধারনা প্রচলন করেন নিউইয়র্ক প্রবাসী একজন বাংলাদেশী কন্যা নাজমা খান।যিনি ১১ বছর বয়স থেকে নিউইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন।তিনি পশ্চিমা জগতে বেড়ে উঠলেও তাঁর মন-মগজে গ্রথিত আছে ইসলামী চেতনা।

মূলতঃ ফেইসবুক, টূইটারের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধমেই এই দিবসটির চেতনা ইউকে,অস্ট্রেলিয়া,ভারত,পাকিস্তান,ফ্রান্স ও জার্মানির মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।গত বছর প্রায় ১৫০-১৬০ টিরও বেশি দেশে পহেলা ফেব্রুয়ারি নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় এই বিশ্ব হিজাব দিবস।

এই দিবসটির প্রবর্তনের পেছনের গল্পটা শেয়ার করেছেন নাজমা খান নিজেই। তার ভাষায় –

“১১ বছর বয়সে যখন আমি স্কুলের একমাত্র “হিজাবী”মেয়ে ছিলাম,তখন আমাকে কেবলমাত্র হিজাব পড়ার কারনে আচরণগত নানান বৈষম্যের স্বীকার হতে হয়েছে।মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় আমাকে বলা হতো “ব্যাটম্যান অথবা নিনজা”। আর ৯/১১ – এর পরে তারা আমাকে ওসামা বিন লাদেন / টেরোরিস্ট পর্যন্ত বলত। যা আমার জন্য সত্যিই দুর্বিষহ ছিল। ”

কেবলমাত্র হিজাবের কারনে সামাজিক ভাবে হেনস্তা এবং বৈষম্যের স্বীকার নাজমা খান হিজাবের সৌন্দর্য্য নারীসমাজকে উপলব্ধি করাবার জন্যে উদারচিত্তে মুসলিম ও অমুসলিম নারীদেরকে একদিনের জন্যে হলেও হিজাব পরিধান করে দেখবার আহবান জানান।

আর এভাবেই ২০১৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের কয়েকটি দেশেই ছোটখাট আয়োজন করে এই “হিজাব দিবস” পালন করা শুরু হয়।

না বলা কিছুকথাঃ
আজকাল বাংলাদেশ সহ পাশ্চাত্যের অনেক দেশেই মুসলিম মেয়েদের জন্যে হিজাব কেবল একটা ফ্যাশনের নতুন ভার্সন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।এর মাধ্যমে ইসলামে পর্দার বিধানের যে গুরুত্ব খুব একটা প্রাধান্য প্রতিভাত হচ্ছে না।

হিজাব মূলতঃ আল্লাহর অকাট্য এক‌টি বিধান। যা মেয়েরা পালন করে থাকে। হিজাব কোন দিবস কেন্দ্রিকতার কোন বিষয় নয়।

তবে এই দিবসের মাধ্যমে নাজমা খান অনেক মেয়ের হৃদয়ে হিজাবের গ্রহনযোগ্যতা,গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। যা আমেরিকা,বৃটেন, অস্ট্রেলিয়ার মত অমুসলিম দেশগুলোর জন্যে কিছুটা হলেও আশাব্যাঞ্জক।

প্রিয় বোনেরা,আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে রঙ বেরঙ্গের “হেডস্কার্ফ” আর একটা শর্ট বোরকার সাথে জিন্স মানেই কেবল পর্দা নয়। পর্দার বিধান তো শ্বাশত। সকল যুগের নারীদের জন্যে একই রকম।

সমাজের প্রত্যেক নারীরাই যখন পর্দাকে “ফরজ বিধান” হিসেবে গ্রহন করবে। এবং এর যথার্থ অর্ন্তর্নিহিত সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারবে, তখনই সমাজে অন্যায়,অশ্লীলতা কমবে এবং নারীরা প্রকৃত সম্মান অর্জন করবে।

 

সহকারী শিক্ষক,খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
খরুলিয়া, সদর, কক্সবাজার।
তথ্যসূত্র :ইন্টারনেট

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •