এম.এ আজিজ রাসেল :
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজার পৌরসভা আয়োজিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (৩১ জানুয়ারী) কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় শক্তিশালী সদর উপজেলা বনাম সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় টেকনাফকে ২—০ গোলে বিধ্বস্ত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সদর উপজেলা। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রধান উদ্যোক্তা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।
ফাইনাল খেলা ঘিরে স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল প্রেমীদের মিলনমেলা। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে ফাইনালে। রেকর্ড সংখ্যক দর্শকে ইতিহাস হয়ে উঠে এই ফাইনাল। অনেকে টিকেট কিনেও ঢুকতে পারেনি খেলা দেখতে। উৎসুক দর্শকদের সামাল দিতে হিমশিম খেয়ে উঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা। খেলা চলাকালীন স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে না পেরে উচ্ছৃঙ্খল কিছু যুবক ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) সেলিম উদ্দিনসহ আহত হয় ১০ জন। পরে জনবল বাড়িয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

টেকনাফকে ২—০ গোলে বিধ্বস্ত করে চ্যাম্পিয়ন সদর উপজেলা

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজার পৌরসভা আয়োজিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (৩১ জানুয়ারী) কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় শক্তিশালী সদর উপজেলা বনাম সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় টেকনাফকে ২—০ গোলে বিধ্বস্ত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সদর উপজেলা।

ঘড়ির কাটা ৩.৩০ টায় শুরু হয় খেলা। প্রথমার্ধের শুরু থেকে দু’দলই বল লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠে। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও। নিজের দলের কেউ বল পেলে আর্তচিৎকারে ফেটে পড়ে দর্শকেরা। খেলার ১০ ও ১৯ মিনিটের মাথায় ২টি গোল মিস করে সদর উপজেলার ৭নং জার্সিধারী হুমায়ুন। ওই সময় তিনি আরিফ থেকে বল পেয়ে সহজ গোল দিতে পারেনি। কিন্তু ২৫ মিনিটে পাল্টে যায় গণেশ। এই সময় হঠাৎ টেকনাফের ডি—বক্সের একটু আগে ফ্রি—কিক পান সদর উপজেলা। এসময় প্রায় মাঝ মাঠ থেকে মাঠি কামড়ানো শট নেয় সদরের পক্ষ হয়ে খেলতে নামা নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় রিসাস। তার তীক্ষè শট টেকনাফের গোল রক্ষক ফয়সাল বোকা বনে। রিসাসের গোলে সদর উপজেলা এগিয়ে যায় ১—০ গোলে। এই অর্ধে আর গোল আসেনি। দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা জ¦লে উঠে টেকনাফ। খেলায় সমতা আনতে প্রাণ লড়াই করে মিড ফিল্ডার ও ফরোয়ার্ডেরা। যার আলোকে কয়েকটি পরিকল্পিত আক্রমণও করে তাঁরা। কিন্তু তাদের সব আক্রমণ দৃঢ়চিত্তে ঠেকিয়ে দেয় সদরের গোল রক্ষক রাহুল। উল্টো ম্যাচে ৭৭ মিনিটে পুরো হতাশায় ডুবে টেকনাফ শিবির। এই সময় সদরের স্ট্রাইকার ও অধিনায়ক হানিফ একাই বল নিয়ে ঢুকে পড়ে টেকনাফের ডি—বক্সে। তিনি রক্ষনভাগের খেলোয়াড়দের বোকা বানিয়ে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ফলে স্কোর গড়ায় ২—০ তে। শেষ অবদি একটি গোলও শোধ করতে পারেনি টেকনাফ। যার ফলে হতাশ হয়ে রেফারির শেষ বাঁশিতে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি নিজেও একজন ফুটবল পাগল। কক্সবাজারে ফুটবল প্রেমীদের এমন উৎসাহ দেখে অতীত মনে পড়ে গেল। এতো মানুষ দেখে বিশ্বাস হয়না বাংলাদেশে করোনা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আপন মহিমায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে মৃত হওয়া ফুটবল। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রধান উদ্যোক্তা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফা, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আহবায়ক প্যানেল মেয়র—২ হেলাল উদ্দিন কবিরের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার সুইটি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ—সভাপতি রেজাউল করিম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক মুকুল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ—সভাপতি অধ্যক্ষ জমিস উদ্দিন, অনুপ বড়ুয়া অপু, জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল ও ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতানসহ কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরে বিজয়ী ও বিজিত দলকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা। টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছে সদর উপজেলার মিড ফিল্ডার শেফায়েত, টুর্নামেন্ডে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছে কুতুবদিয়া দলের মেজবাহ ও ম্যাচ সেরা হয় সদর উপজেলার দলনায়ক হানিফ। এই টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান জেলা ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও কোচ মাসুদ। এর আগে রাখাইন শিল্পীদের নান্দনিক পরিবেশনা সবার নজর কাড়ে। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় খেলা। ফাইনাল খেলা ঘিরে স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল প্রেমীদের মিলনমেলা। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে ফাইনালে। রেকর্ড সংখ্যক দর্শকে ইতিহাস হয়ে উঠে এই ফাইনাল। অনেকে টিকেট কিনেও ঢুকতে পারেনি খেলা দেখতে। উৎসুক দর্শকদের সামাল দিতে হিমশিম খেয়ে উঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা। খেলা চলাকালীন স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে না পেরে উচ্ছৃঙ্খল কিছু যুবক ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) সেলিম উদ্দিনসহ আহত হয় ১০ জন। পরে জনবল বাড়িয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •