cbn  

সিবিএন ডেস্ক:
করোনাপরবর্তী নানা জটিলতা নিয়ে করা জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ মারাত্মক মানসিক দুশ্চিন্তা এবং ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ মারাত্মক হতাশায় আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ রোগীর মধ্যে আংশিক স্মৃতিভ্রংশের প্রবণতাও দেখা গেছে। অন্য জটিলতার মধ্যে ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, ক্লান্তি ও অবসাদ ও মাংসপেশিতে ব্যথাও ছিল। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত করোনাপরবর্তী নিউরোলজিক্যাল জটিলতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ও পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অংশ হিসেবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস ও বাংলাদেশ নিউরোসায়েন্স সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে এ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওয়েবিনারে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল করোনাপরবর্তী নিউরোলজিক্যাল জটিলতা, এর গুরুত্ব ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক দিকনির্দেশনা।

বাংলাদেশের করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক জটিলতা নিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সের ডিন হাসান মাহমুদ রেজা এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুর রহমান অনলাইনভিত্তিক এ জরিপ পরিচালনা করেন।

জরিপে দেখে গেছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ মারাত্মক মানসিক দুশ্চিন্তা এবং ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ মারাত্মক হতাশায় আক্রান্ত। অন্যদিকে, ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ রোগীর মধ্যে আংশিক স্মৃতিভ্রংশের প্রবণতা লক্ষণীয়। অন্যান্য জটিলতার মধ্যে ঘ্রাণশক্তি লোপ (৮৪.২%), মাথাব্যথা (৯৩.৭%), অনিদ্রা (৭৬.৩%), ক্লান্তি ও অবসাদ (৮১.৬%), মাংসপেশিতে ব্যথার (৬৬.০%) কথাও বলেছেন।

২ হাজার ৩৭ জন করোনা রোগীর তথ্যের ভিত্তিতে জরিপটি করা হয়েছে। ২০ থেকে ৬০ বছর বয়সসীমার রোগীদের ওপর গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে এ বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত এ জরিপ করা হয়েছে।

করোনাসংক্রান্ত মানসিক বিপর্যয় মোকাবিলায় মেডিটেশনের গুরুত্ব, পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যকৌশল ও পদ্ধতি সম্পর্কে ড. ইল সু মুন আলোচনা করেন।

ওয়েবিনারটির সভাপতি হাসান মাহমুদ রেজা বলেন, বাংলাদেশে কোভিডপরবর্তী জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

করোনাপরবর্তী নিউরোলজিক্যাল জটিলতা নিয়ে ওয়েবিনারে আমেরিকার ইলিনয়েড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনজুর রনি, কানাডার সিক দ্য চিলড্রেন ইনস্টিটিউট থেকে মোহাম্মদ উদ্দিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ডংগুক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ অব মেডিসিন থেকে ইল সু মুন বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের ভাবনা ও গবেষণার উল্লেখযোগ্য অংশ উপস্থাপন করেন। করোনাসংক্রান্ত মানসিক বিপর্যয় মোকাবিলায় মেডিটেশনের গুরুত্ব, এর বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যকৌশল ও পদ্ধতি সম্পর্কে ইল সু মুন আলোচনা করেন। মনজুর আমেরিকার করোনা রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য উপস্থাপন করেন। ডাফিল করোনা রোগীদের জেনেটিক ত্রুটি এবং তাঁদের নিউরোলজিক্যাল জটিলতার নিয়ে কথা বলেন। ফোরকান উদ্দিন, হেড অব ক্লিনিক্যাল রিসার্চ (নিউরোজেন চিলড্রেন হেলথকেয়ার), বাংলাদেশে করোনাপরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

ওয়েবিনারে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের চেয়ারম্যান জি এম সায়েদুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। ওয়েবিনারের সভাপতি হাসান মাহমুদ রেজা বলেন, বাংলাদেশে কোভিডপরবর্তী জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিশেষ কর্নার খুলে রোগীদের সেবা প্রদান করা অতীব প্রয়োজন। তিনি বাংলাদেশের করোনা মোকাবিলায় এই ওয়েবিনার থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও দিকনির্দেশনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন এবং ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

-প্রথম আলো

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •