মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কউক এর উন্নয়ন  কর্মকান্ডে কক্সবাজারের শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও আমলারা কি পরিমান বাঁধা সৃষ্টি করেছে, সে দুঃখ বলে শেষ করা যাবেনা। এ দুঃখ জনসম্মুখে বলতে কউক এর উদ্যোগে একটি জনসমাবেশ করে সেখানে ধারাবাহিকভাবে তা বর্ননা করা হবে। সে জনসমাবেশে ভোজের আয়োজন করতে না পারলেও উপস্থিত নাগরিকদের জন্য সামান্য ব্রেকফাস্ট এর ব্যবস্থা করা হবে।

শনিবার ৩০ জানুয়ারী শহরের দক্ষিণ কলাতলী বড়ছরা দরিয়ানগরে কক্সবাজারের মানুষের শেকড়ের টানে নিরন্তর ছুটে চলা, স্বার্থ, অধিকার সুরক্ষা ও আদায়ের অন্যতম স্বোচ্ছার সংগঠন ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ এর উদ্যোগে মেগা মিলনমেলা’র মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে: কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ একথা বলেন। কউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কারণে কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক কক্সবাজারে কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড করতে পারছেন না বলে অবহিত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র দিয়েছিলেন। কউক চেয়ারম্যান লে: কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ প্রশ্ন রাখেন, একজন  ডিসি কিভাবে কক্সবাজারবাসীর সম্পদ রাষ্ট্রের জমি দখল করে নিজের পদের নামে নামকরণ করে ডিসি কলেজ বানান।

মিলনমেলায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার কমার্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল করিম বলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে কক্সবাজার এসে স্বচক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখে নিজে উদ্যোগ নিয়ে সমুদ্র সৈকতের ভাঙ্গন রক্ষায় ঝাউবাগান সৃষ্টি করেছিলেন। আর এখন সমুদ্র সৈকতের নিরাপত্তা বেষ্টনী সেই ঝাউবাগান ধ্বংস করা হচ্ছে। কক্সবাজারবাসীর অহংকার, আল্লাহতায়লার নিয়মত বিশাল সমুদ্র সৈকতকে খন্ডিত করে ফেলা হচ্ছে।

সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা, কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে সমন্বয়ক মোহসীন শেখ’র নান্দনিক সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ মিলনমেলায় স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও অর্জিত বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন সমন্বয়ক মোঃ নাজিম উদ্দিন। মিলনমেলার উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক মেহেরুজ্জামান, মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমীর পাল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান, আবু নাছের মোঃ হেলাল উদ্দিন, নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল স্পেশাল পিপি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউর রহমান রেজা, কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যাপক আবুল মনছুর, আমরা কক্সবাজারবাসী উখিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার প্রমুখ।

মিলনমেলায় বক্তারা বলেন, সার্বিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, অক্ষুন্ন রেখেই কক্সবাজারের টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও গ্রহনযোগ্য উন্নয়ন করতে হবে। উন্নয়নের নামে এমন কোন কাজ করা যাবেনা, যা কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশ, সভ্যতা, সৃংস্কৃতি, জীবনাচর, কৃষ্ঠিকে ধ্বংস করে। এসবকে প্রাধন্য দিয়েই সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে কক্সবাজারের সর্বস্থরের নাগরিকদের কক্সবাজার ও কক্সবাজারবাসীর স্বার্থ সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাতে হবে।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজারবাসী এখন রাজনৈতিক অভিবাবকহীন হয়ে পড়েছে। সেই কারণে আমালারা নাগরিকদের উপর ছটি ঘুরায়। বক্তারা বলেন, একজন রোহিঙ্গা শরনার্থী অনৈতিক পন্থায় জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পার্সপোট পায়। কিন্তু জেলার একজন স্থানীয় নাগরিককে জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে নাকানি চুবানী খেতে হয়। এভাবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এটা কক্সবাজারের স্থানীয় নাগরিকদের জন্য খুবই লজ্জাজনক। বক্তারা জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে এ ধরনের হয়রানি বন্ধ করে দেশের অন্যান্য জেলার মতো জন্মনিবন্ধন সনদ প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি সহজ করার দাবি জানান। অনেক বক্তা আক্ষেপের সাথে বলেন, রোহিঙ্গা ও অন্যান্য জেলার লোভী মানুষদের আগ্রাসনে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর এ অবস্থা হয়েছে যে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কক্সবাজারে বাসকরা স্থানীয় জনগোষ্ঠী নিজ এলাকাতেই এখন যেন ‘পরবাসী’।

আলোচনা সভায় শেষ দিকে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, পৌরসভার স্টাফ নুরুল কবির, স্বাস্থ্য কর্মী মোঃ আনোয়ার সহ করোনার সম্মুখযোদ্ধা হিসাবে ৮ জনকে সম্মামনা প্রদান করা হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও সম্মিলিতভাবে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মিলনমেলার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়। মিলনমেলায় অর্ধ্ব সহস্রধিক কক্সবাজারের স্থানীয় নাগরিকের সামাগম ঘটে। সবার মাঝে বয়ে যায় প্রাণের উচ্ছ্বাস। হৃদ্যতাপূর্ণ, ঘনিষ্ঠ ও প্রাকৃতিক দৃশ্যে সৃষ্টি হয় এক আবেগময় পরিবেশ। মিলনমেলা ও পিকনিক উপলক্ষে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়-পাহাড়ঘেষা সাগরপাড় দরিয়ানগরে। আলোচনা সভার পর চমৎকার এ আয়োজনে মধ্যাহ্ন ভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‍্যাফল ড্র এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান চলে।

মিলনমেলায় উপস্থিত সবার সর্বসম্মতিক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধা, কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী’কে সভাপতি,  সমন্বয়ক মোঃ নাজিম উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক এবং সমন্বয়ক ও সাংবাদিক মোহসীন শেখ’কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে আমরা কক্সবাজারবাসী’র কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •