সংবাদদাতা:

মুজিববর্ষ উপলক্ষে কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ ইউনিয়নের জনসাধারণের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে জন্মনিবন্ধনের‘ফি’ নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে কালারমারছড়ার বাসিন্দাদের জন্মনিবন্ধন করতে আর কোন খরচ পড়বে না। যাদের জন্মনিবন্ধন হয়নি কিংবা অনলাইন হয়নি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিষদে এসে জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান তারেক এর এমন ঘোষণায় ইউনিয়ন ব্যাপী সাধারণ মানুষের মাঝে খুশীর সঞ্চার হয়েছে। চেয়ারম্যানের এমন সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা স্বরূপ কালারমারছড়া ইউনিয়নের জনগণের জন্য জন্মনিবন্ধনের সকল খরচ নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসামন শরীফ। জেলার প্রথম শহীদ মোঃ শরীফ চেয়ারম্যান এর দৌহিত্র মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত ওসমান গণীর পুত্র কালারমারছড়ায় উন্নয়ন ও অগ্রগতির নায়ক তারেক বিন ওসমান শরীফ কর্তৃক এমন ঘোষণায় এলাকার বিশিষ্টজনরা বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন।

কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক বলেন, এই পরিবারটি এলাকার মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব থেকে। বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হলেও এলাকার মানুষকে কোনদিন বিমুখ করেননি। অন্যরা মানুষ থেকে শুধু নিয়েছেন, এই পরিবার শুধুমাত্র দিয়েই গেছেন। এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত তিনি আগেও অনেক নিয়েছেন। করোনাকালীন সময়ে তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে ত্রাণ বিতরণে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। যেখানে ইউনিয়নের মানুষের সমস্যা সেখানেই হাজির হন চেয়ারম্যান তারেক। করোনাকালীন সময়ে গোপনে অনেকের বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

কালারমাছড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ আলী জানিয়েছেন, এই পরিবার এলাকার কল্যাণ করতে গিয়ে অনেকেই জীবন বিষর্জন দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কক্সবাজার জেলার প্রথম শহীদ হন তৎকালীন চেয়ারম্যান মোঃ শরীফ। এরপরে এলাকায় শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে গিয়ে হত্যাকান্ডের শিকার হন তারেক বিন ওসমান শরীফ এর পিতা সাবেক চেয়ারম্যান ওসমান গণী।

কালারমারছড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনচারুল করিম রুমি জানিয়েছেন, বিগত ৪ বছরে পাল্টে গেছে পুরো কালারমারছড়ার চিত্র। ইউনিয়ন পরিষদকে তিনি জনগণের সেবা পাওয়ার একটি সহজ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। যেখানে বিচার ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছিল তা তিনি পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এখন বিচারের জন্য মানুষকে পরিষদে ঘুরাঘুরি করতে হয় না। প্রতিটি ওয়ার্ডেই নির্ধারিত তারিখে সেই ওয়ার্ডের বিচার কাজ পরিচালতি হচ্ছে। আগে বিচারের জন্য চেয়ারম্যানের পিছনে মানুষ ঘুরলেও এখন বিচার নিষ্পত্তি করার জন্য চেয়ারম্যান ঘুরছেন মানুষের পিছনে। এটি শুধুমাত্র কালারমারছড়ার জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য একটি দৃষ্ঠান্ত। এলাকার মানুষের প্রতি চেয়ারম্যানের ভালবাসা আছে বলেই তিনি তা করছেন। বর্তমানে পুরো ইউনিয়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি হচ্ছে শুধু মাত্র চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফের আন্তরিকতার কারণে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোজাম্মেল হক বলেন, কালারমারছড়ায় এমন কোন সড়ক নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসামন শরীফের হাতের ছোঁয়া লাগেনি। দীর্ঘদিন পরে একজন যোগ্য ও জনদরদী চেয়ারম্যান পেয়ে আমরা আনন্দিত। চেয়ারম্যান এর নেওয়া সকল প্রকল্প ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কালারমারছড়া একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি এই পরিবারের রয়েছে পুর্ণ আস্থা। চারদলীয় জোট সরকারের সময় এত নির্যাতন ও অত্যচারে ও এই পরিবারকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

কালারমারছড়ার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নবাব মিয়া জানিয়েছেন, টাকা জোগাড় করতে না পারায় ৪ সন্তানের জন্মনিবন্ধন নিয়ে বড়ই চিন্তায় ছিলাম। শুনেছি সব খরচ চেয়ারম্যান বহন করবে এতে আমরা আনন্দিত। চেয়ারম্যানের জন্য আমরা দোয়া করি। বিগত সময়ে পরিষদে এসে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হলেও এখন পরিষদের অফিস জনগণের অফিসে পরিণত হয়েছে।

কালারমারছড়ার ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জিয়াবুল ইসলাম জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানে সব কাজই ইতিবাচক। কালারমারছড়ার সকল অভ্যন্তরীণ সড়ক পরিদর্শন না করলে বুঝাই যাবে না কত উন্নয়ন হয়েছে। এলাকার মানুষ যেখানে স্বপ্নেও ভাবিনি একটি সড়কের সেখানে দৃষ্টিনন্দন সড়ক তৈরি করেছেন। যেখানে যা প্রয়োজন তা বাস্তবায়ন করেছেন। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে তিনি জন্মনিবন্ধনের ‘ফি’ নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আরেক দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন। মানুষ জন্মনিবন্ধন করবে রাষ্ট্রের ‘ফি’ তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করবেন।

কালারমারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন জন্মনিবন্ধন বন্ধ থাকায় অসংখ্য মানুষ জন্মনিবন্ধন করতে পারেনি। যার ফলে এক পরিবারের একাধীক সদস্য জন্মনিবন্ধন করতে পারেনি। খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই খরচ বহন করতে পারছেন না। তাই মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমার নিজস্ব তহবিল থেকে জন্মনিবন্ধনের ‘ফি’ প্রদান করে সাধারণ মানুষকে সহযোগীতা করার বিষয়টি ঘোষণা করেছি। এতে সবাই এ ঘোষণার আওতায় আসবে। অনিয়ম হওয়ারও কোন সুযোগ নেই। যারা আসবেন সকলেই কোন ‘ফি’ ছাড়াই জন্মনিবন্ধন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেই জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •