মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

শিশু ধর্ষণের দায়ে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ জজ) জেবুন্নাহার আয়শা একজন ধর্ষনকারীকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছেন। অর্থদন্ড আদায়ের পর ধর্ষিতাকে তা ক্ষতিপূরণ হিসাবে দিতে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক। বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারী সকালে বিজ্ঞ বিচারক এ রায় ঘোষণা করা হয়।

কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পিপি এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামীর নাম আনোয়ার হোসেন (২৩), তার পিতার নাম : মঞ্জুর আলম, মাতার নাম : ওয়াছ খাতুন।
তার বাড়ি রামু’র রশিদনগর ইউনিয়নের থলিয়াঘোনা, পানিরছরা, বড় গ্যারেজ এলাকায়। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত-২০০৩ সাল) এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিজ্ঞ বিচারক জেবুন্নাহার আয়শা এ সাজা প্রদান করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো-২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের থলিয়াঘোনা, পানিরছরা, বড় গ্যারেজ এলাকার সরওয়ারের বাড়ীর সামনে ছোট কালভার্টের পূর্ব পার্শ্বে মাত্র ১০ বছর বয়সী শিশু মুক্তা (কাল্পনিক নাম)-কে ধর্ষন করে। এঘটনায় ধর্ষনের শিকার শিশু মুক্তা (কাল্পনিক নাম) এর পিতা বাদী হয়ে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর : ২১/২০১৭ (রামু) জিআর মামলা নম্বর ৩৭৭/২০১৭ ইংরেজি (রামু), যার শিশু মামলা নম্বর ১০৩/২০১৮ ইংরেজি এবং নারী মামলা নম্বর : ১৩৩/২০১৯ ইংরেজি। ২০১৯ সালের ১১ মার্চ মামলার চার্জ গঠন করা হয়। মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

রায়ে অর্থদন্ড আদায়ের জন্য The code of criminal procedure এর section 386(1)(b) ধারা মতে প্রক্রিয়া করে আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত আসামী আনোয়ার হোসেন এর এক লক্ষ টাকার সমপরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করতে কক্সবাজারের জেলা কালেক্টর (ডিসি) কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামীর সম্পত্তি প্রকাশ্যে বিক্রি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২’তে জমা দিতে বলা হয়েছে। এ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ ধর্ষণের শিকার মুক্তা (কাল্পনিক নাম)-কে প্রদান করতে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ের কপি The code of criminal procedure এর section 386(1)(b) ধারা মতে কক্সবাজারের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসি) এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে প্রেরণ করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পিপি এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউর রহমান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •