এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী তথা মুজিববর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবেনা বলে ঘোষনা দিয়েছেন আওয়ামীলীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই ঘোষনার আলোকে কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিরলশভাবে কাজ করছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের দিকনির্দেশনার আলোকে ইতোমধ্যে জেলার আট উপজেলায় ৩৩০টি ভুমিহীন পরিবারকে মাথা গোঁজার ঠাই হিসেবে দেওয়া হয়েছে একটি করে নতুন ঘর।

এরই ধারাবাহিতকায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নেও দেওয়া হচ্ছে ১৮০ ভুমিহীন এবং ২০টি নৃতাত্ত্বিক পরিবারকে দুইশতক জমিসহ প্রধানমন্ত্রীর উপহার একটি করে ঘর।

প্রকল্পের আওতায় প্রথমধাপে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি খাসজমিতে নির্মিত ৮০টি নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে উপহারভোগী পরিবারগুলোর হাতে। শনিবার ২৩ জানুয়ারি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মিত নতুন ঘরের চাবি উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন মোহনায় অনুষ্ঠিত ঘরের চাবি ও দলিল বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঘর নির্মাণ প্রকল্পের সমন্বয়ক চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী পরিবারের নারী-পুরুষের হাতে ঘরের চাবি ও দলিল তুলে দেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো.তানভীর হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টু, উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন হক জেসি চৌধুরী, চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ জোবায়ের, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের ও জেলা পরিষদ সদস্য জাহেদুল ইসলাম লিটু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.মাসুদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, কোণাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার ও বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল আহামদ সিকদার প্রমুখ।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়নের ভূমিহীন ১৮০ পরিবার এবং ২০টি নৃতাত্ত্বিক দেওয়া হচ্ছে জায়গাসহ নতুন বাড়ি। শনিবার উপকারভোগী নির্বাচিত ৮০ পরিবারকে বাড়িসহ জায়গার বন্দোবস্ত দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকী পরিবারগুলোকে অল্পসময়ের মধ্যে বুজিয়ে দেওয়া হবে জায়গাসহ নতুন বাড়ি, বন্দোবস্ত দলিল।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থবরাদ্দের আলোকে শনিবার ২৩ জানুয়ারী উপজেলায় প্রথমধাপে নতুন ঘর পেয়েছেন ৮০ ভুমিহীন পরিবার। পরবর্তীতে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ঘর পাবেন আরও ১২০টি ভুমিহীন পরিবার। প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। মাটি ভরাটের কোন বরাদ্দ না থাকলেও সেটি করে দিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি সেমিপাকা ঘরে থাকছে ২টি রুম, একটি বারান্দা, একটি কিচেন, একটি ওয়াশরুম ও একটি বেসিন।

প্রকল্পের প্রথমধাপে চকরিয়া উপজেলার ৮০ ভুমিহীন পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার একটি নতুন ঘর পেয়েছেন হারবাং ইউনিয়নের বাসিন্দা স্বামীহারা আছিয়া বেগম। প্রায় আটবছর পূর্বে তিনি স্বামীকে হারিয়েছেন। জীবন সংগ্রামে সারথী ১২ বছর বয়সের একমাত্র কন্যাটিও প্রতিতবন্ধী। মানুষের কাছে হাত পেতে চলে তাঁর সংসার। এখন বেচে থাকার লড়াইটা তার প্রতিদিনের।

সেই আছিয়া বেগমের হাতে জমির দলিল ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। ২৩ জানুয়ারী শনিবার চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঘরের চাবি তুলে দেয়ার মুর্হুতে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এমপি জাফর আলম ছাড়াও অতিথিদের সামনে স্বামীহারা আছিয়া বেগম তুলে ধরেছেন তাঁর দীর্ঘ জীবন সংগ্রামের কাহিনী।

অবশ্য মাইক হাতে নিয়ে আছিয়া বেগম কথার বলার শুরুতে তাকে একটি নতুন ঘর উপহার দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যায়নি। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই ঘরটি আমি এবং আমার বার বছরের মেয়েটির মাথা গোজাঁর ঠাই হয়েছে। আল্লাহ পাক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁিচয়ে রাখুক, যাতে আমাদের মতো গরীব মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সামসুল তাবরীজস্বামীহারা ভুমিহীন আছিয়া বেগমকে একটি ঘর উপহার দিতে পেরে জেলা প্রশাসন ধন্য। প্রকৃত ভুমিহীন হিসেবে বাছাই করে তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করতে পারায় চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন গর্বিত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •