মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু :
আগামী ২২ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৭৫ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ৬ ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণা অনুসারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম দৌছড়িতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান,মেম্বার ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার প্রার্থীগণ পাড়া মহল্লায় গিয়ে দোয়া ও সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি করোনা কালে বর্তমান চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং মেম্বার পদে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীরা অনেকেই করোনায় স্বল্প আয়ের অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সুবাদে বর্তমানে দল বেঁধে প্রার্থীগণ ভোটারদের ধারে ধারে গিয়ে কুশল বিনিময় ও খোঁজ-খবর নিয়ে ছোট ছোট গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, মোবাইলেও তারা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই দৌছড়ি ইউনিয়নে বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন ২২ মার্চ থেকে ইউপি নির্বাচন ঘোষণার সাথে সাথে সীমান্তবর্তী এ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়,চায়ের দোকান, মুদি দোকান,রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে আলোচনা আর সমালোচনা। এসব আলোচনার ফাঁকে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। তবে আলোচনায় চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও পুুুরুষ সদস্য পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের চাইতে প্রাধান্য পাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের
দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে। বর্তমানে সীমান্তবর্তী এই ইউনিয়ন জুড়ে আলোচনা একটাই এবার দৌছড়ি ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে কে হবেন নৌকার মাঝি। তাছাড়া আলোচনা হচ্ছে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমরান ও বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাবিবউল্লাহ’র মাঝে কার জনপ্রিয়তা বেশী? কাকে মনোনয়ন দিলে ভাল হবে? এবং কার মনোনয়নে জয়ের সম্ভাবনা বেশী? এসব বিষয়ে উপজেলায় চলছে চুল-ছেঁড়া বিশ্লেষণ । তবে, দলীয় মনোনয়ন পেতে দুই জনই তাকিয়ে আছেন উপজেলা ও জেলার নেতাদের দিকে। অধীর আগ্রহে তারা অপেক্ষায় আছেন কেন্দ্রীয় ঘোষণার জন্য। আবার তারা কেন্দ্রীয় বা উপজেলা ও জেলা নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে লবিং করছেন। নিজের অবস্থান তুলে ধরে তাদের মনজয়ের চেষ্টাও করছেন। । দৌছড়ি ইউনিয়নে গত বার নৌকা নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়া বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হাবিবউল্লাহ। তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টিতে দোছড়ি ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিগত ২৮ বছর চেয়ারম্যানি করেছি তাই দোছড়ির মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছি আমি তাই জনপ্রিয়তাসহ সবকিছু যাচাই-বাছাই করলে আমি পাব দলীয় মনোনয়ন ইনশাআল্লাহ। স্থানীয়দের মতে হাবিবউল্লাহ অসাধারণ মানুষের জনপ্রিয়তা অর্জন করায় আবারও শক্তিশালী প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় আছেন তিনি। অপরদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামিলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান এলাকার মানুষের আস্তা অর্জনে বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন সে সুবাদে তিনিও এবার দৌছড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া। এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ছাত্র রাজনীতি করে এই পর্যন্ত আসলাম তাই দল এবার আমাকে মনোনয়ন দেবে সেটা আমি আশাবাদী। অন্যদিকে ২০ দলীয় জোট থেকে আবারও একক প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান রশিদ আহাম্মদ। তিনি বলেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামিলীগের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তবে এ ইউনিয়নে এবার জেএসস থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঐ এলাকার আর এক শক্তিশালী প্রার্থী বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন চৌধুরীর। তিনি এ ইউনিয়নের পাহাড়ী-বাঙ্গালীর সেবা দিতে হাল ধরতে চান। সব মিলিয়ে এ ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের রয়েছে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী এক জন হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সভাপতি আলহাজ্ব হাবিবউল্লাহ, অন্য জন হচ্ছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও দৌছড়ি ইউপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরীর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন,উপজেলা,জেলা আওয়ামিলীগ ও মন্ত্রী মহোদয় যাকে মনোনয়ন দিবেন আমরা তার পক্ষে কাজ করবো। তিনি আরো বলেন এলাকার মানুষের পাশে যাকে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাবে ও এলাকার উন্নয়নে যে কাজ করবে এর উপ ভিত্তিতে করে জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই করে এবার নৌকা প্রতীক দেবে। স্থানীয় লোকজনের মতে বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হাবিবউল্লাহ প্রাধান্য পাবে বলে তারা আশাবাদী । এবিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম বাহাদুর বলেন, তফশিল ঘোষণার পরে বলা যাবে। তবে দোছড়ি ইউনিয়নে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান রশিদ আহাম্মদ রয়েছে। এর পরেও দলীয় মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •