আলমগীর মাহমুদ

চাটগাঁইয়া গানকে আমি তাঁদের পুকুরের কৈ মাছের মত করে দেখি না। এটা চাটগাঁইয়া আঞ্চলিক নয়, চাটগাঁইয়া গান। নজরুল ধাচে নজরুল সংগীত , রবীন্দ্র ধাচে যেমন রবীন্দ্র সংগীত।

রবীন্দ্র, নজরুল ধারায় যেমন ভাব, ভাবের গভীরতা, চাটগাঁইয়া কিছু কিছু গানে বরং তাকেও ছাড়িয়ে গেছে । তারপরও সে কেন হবে আঞ্চলিক!  তাঁরও আছে নিজস্ব স্বকীয়তা ,আছে ভাবের বর্ষনে পৃথিবী জয় করবার শক্তি।

চীন জাপানীদের ভাষায় যদি হতো, পেতো বিশ্বকদর। চীন জাপানে পড়তে গেলে যেমন তার ভাষা শিখে তাঁর ভাষাতেই শিক্ষা অর্জন করতে হয়।

চাটগাঁইয়া সংস্কৃতির কপাল লিখনে সে এমন মানুষের ভাগে যাদের নাই কিছু নাই, যাহ থাকা দরকার তাহ নাই।প্রজন্মরে নিজ ভাষা সংস্কৃতির্চ্চার শক্তিটুকুন পর্যন্ত নাই। বরং তাদের ভাষায় কথা বলা, গানের চর্চা– নিজেরাই নিজেদের ছেলেমেয়েকে বারনে কয় “এই পঁচা কথা কইস না!”

অজ্ঞতা গর্বহরে । আমাদের অজ্ঞতা, অনাদর, বাজারজাতের কারনেই আজ চাটগাঁইয়া সৃংস্কৃতির খন্ডে খন্ডে অখন্ড সংস্কৃতির অংশের পরিচয় “আঞ্চলিক” অন্যের ভেংচিকাটার, নিম্নকায়স্তের অসূচী বাক্য ভাবার, ডাইলেক্টগুলোর পাওন বনেছে হাস্যরস!

গরম চা’য় পরটা, বেলা চুবিয়ে খাওন চাটগাঁইয়াদের পছনের, সন্ধ্যাকালীন রিক্রিয়েশনের মতই প্রিয়। এটি প্রাচীন ধারা। ডিজিটাল সমাজজীবনেও আইপের (মাইন্ডের) নয়।

চাটগাঁইয়ারা এ কাজটি কবি, সাহিত্যিক, ইঞ্জিনিয়ার, স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানীদের বেশে একেবারে সঠিক সময় , যখন প্রকৃতির আবহ,শারীরিক চাওয়া, মনের চাওয়া, কর্মের গতিহীন সময়ে বেশ নান্দনিক পারিবারিক মমতায় সারে …

‘জাগি’-বেলা থাকতেই । অবেলার বেলা চা’তে চুবিয়ে খাবার আগ্রহ রয় না। অবেলার খাওনে মজাও ধরে না, হয়না মনের তৃপ্তিতে…

‘জাগি’.. ‘অহংকারে’ । আমাদের সংস্কৃতিতে অচিন হতে যাওয়া মোচা, কত্তি, পানির জাগের আদিম সংস্করণ মাটির তৈরি ‘সুরাইয়া’, ‘সানকি’, বউচি, খোয়াভাত, গান, ‘ছাম্মা’ –লোকজ আচারের অতীতে ।

অতীত বিয়াই বিয়াই বাড়িতে বেড়ানোর জোড় দুরুজ পাক্কন পিড়ার ভারে! বেয়াই বেয়াইনের সন্মানে আস্তা খাসির দুরুজে!
অবেলার বেলায় নয়, চাটগাঁইয়া দরদে দরদে….।

চলবে….

 

লেখকঃ– বিভাগীয় প্রধান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ,উখিয়া কলেজ, কক্সবাজার। alamgir83cox@gmail. com

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •