আতিকুর রহমান মানিকঃ
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে প্রবাহমান নদী-দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল পাকা ভবন। ঈদগাঁও বাসষ্টেশনের পশ্চিমদিকে নদীর দক্ষিন পার্শ্বে দখল করে এ ভবন তৈরী করছে জনৈক সিরাজ। গত বছর তীর দখল করে ভবন তৈরীর পর এবছর নদী দখল করে উক্ত ভবনের বর্ধিতাংশ নির্মান করছে।
রবিবার (১৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাসস্টেশন- ঈদগাঁও বাজার সংযোগ সড়কের চাউল ব্যবসায়ী সিরাজ তার দোকানের পিছনে নদীর তীর দখল করে আগেই একটি পাকা ভবন তৈরী করেছে। এ বছর পুনরায় নদী দখল করে আগের ভবনের বর্ধিতাংশ নির্মাণ করছে। তীর দখলের পর নদীর মূল স্রোতধারার কাছেই ভবনের বিশাল সব পিলার স্হাপন করে নির্মিত হচ্ছে এ দালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শীতকালে নদীতে স্রোত না থাকার সুযোগে প্রথমে পলিথিনের ঘেরা দিয়ে নদী দখল নেয় সিরাজ। এরপর পাইলিং করে ভবন নির্মানকাজ শুরু করে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যবসায়িরা জানিয়েছে, নদী দখল করে উক্ত ভবন নির্মানের ফলে বর্ষায় নদীর মূল স্রোতধারা বাঁধা পেলে দুই পার্শ্বে নদী ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে। এতে উভয় তীরের সরকারী বেসরকারী স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। অবৈধ উক্ত ভবনের আনুমানিক ১০০ গজ পূর্বেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঈদগাঁও ব্রীজ অবস্হিত।
নদীর স্রোতধারা পরিবর্তন হলে আগামী বর্ষায় ঈদগাঁও ব্রীজ ও মহাসড়কের অংশবিশেষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানায়, অবৈধ এসব ভবনের ফলে প্রতি বর্ষায় বন্যার পানিতে দফায় দফায় ঈদগাঁও বাজার প্লাবিত হয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে কোটি কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়।
বৃহত্তর ঈদগাঁও পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ পরিষদ সভাপতি হাফেজ নূরুল আলম বলেন, নদী দখল করে নির্মিত এসব স্হাপনার ফলে পরিবেশ প্রকৃতির উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বাংলাদেশের নদী পরিব্রাজক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইসলাম মাহমুদ বলেন, নদী দখল ও পরিবেশ প্রকৃতির ক্ষতি করে কোন স্হাপনা হতে পারেনা। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ঈদগাঁও নদী দখল করে অবৈধ স্হাপনা নির্মানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সিরাজ।
তবে এ ব্যপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আকতার সুইটি বলেন, নদী দখল করে অবৈধ ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •