আবদুর রহমান খান

 

ভারত আধিকৃত কাশ্মীরের মুক্তি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবীতে সোচ্চার হয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট।

কাশ্শীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসংগে বৃটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমনস-এর ওয়েষ্ট মিনিষ্টার হলে গতবুধবা (১৩ জানয়ারী) আয়োজিত এ বিতর্কে অংশ নিয়ে অন্তত: একজন মন্ত্রী ও দশজন এমপি কাশ্মীরীদের ওপর চলমান ভারতীয় বাহীনির নির্যাতন ও মানবাধিকার লংঘনের সকল তৎপরতা বন্ধ করার দাবী জানিয়েছেন। একই সাথে কাশ্মীরীদের ইচ্ছা আনুযায়ী তাদের নিজেদের পরিচালিত হবার অধিকার দাবী করেন।

বিতর্কে অংশ নিয়ে সর্বদলীয় পার্লামেন্টারী কাশ্মীরী গ্রুপের নেতা এমপি সারা ব্রিটক্লিফ জানান, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াভয় সামরিক নিয়ণ্ত্রনে নিগৃহীত হচ্ছে কাশ্মীরের নারী-পুরুষ ও শিশুরা। ভারত আধিকৃত কাশ্মীরে গনহত্যা বন্ধ করতে বিশ্বের সমর্থন দরকার সেখানকার নির্যাতিত মানুষদের।

ব্রাডফোর্ড ওয়েষ্ট এলাকার লেবার দলীয় এমপি নাজ শাহ জানান, কাশ্মীরে গণহত্যার খবর বাইরের দুনিয়ার মানুষ জানতে পারছে না । কারণ, মিডিয়াকে ব্লাক আউট করে রাখা হয়েছে। সেখানে নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে, গুম করে পেলা হচ্ছে ; নারীদের ধর্ষন করা হচ্ছে; সেখানে চলছে জাতিগত নির্মূল অভিযান ।

এই ব্রিটিশ মুসলিম মহিলা এমপি প্রশ্ন করেন, যেখানে গনমাধ্যমে খবরাখবর প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা বহল রয়েছে, যেখানে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না ; সেখানে বৃটিশ পার্লামেন্ট হাউজ কী করে নিশ্চিত হবে যে কাশ্মীরে জেনোসাইড চলছে না?

মিসেস শাহ তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, ৭০ লক্ষ কাশ্মীরিদের দমিয়ে রাখতে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে পাঁচ লক্ষ সৈন্য। ব্রিটিশ সরকার ভারতের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে । ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অর্ধ বিলিয়ন পাউন্ডের অস্ত্র দিয়েছে ভারতকে। আর সেই অস্ত্র দিয়ে কাশ্মীরীদের রক্ত ঝরানো হচ্ছে।

তিনি ব্রিটিশ সরকারকে আহবান জানান, এখনো সময় আছে, কাশ্মীরিদের রক্ষায় সক্রিয় হোন, নয়তো ইতিহাস ক্ষমা করবে না।

সর্বদলীয় পার্লামেন্টারী কাশ্মীরী গ্রুপের আর একজন এমপি জেমস বেরী ডালি জানান, তিনি গতবছর ফেব্রুয়ারী-মার্চে পার্লামেন্টারি দলের সদস্য হয়ে কাশ্মীরে সফরে গিয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের কথা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে শুনে এসেছেন। এখন সেখানে চলছে করোনার নামে লকডাউন। আসলে এটা বরং কাশ্মীরীদের মৌলিক মানবাধিকারকে আরো বেশি দলিত করছে। নারী নির্যাতন, গুম, হত্যা এসব এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে পরেছে। কিন্তু এ সবের খবর পশ্চিমা গনমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ভারত তাদের অধিকৃত কাশ্মীরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের উপর যে বর্বরতা চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে সভ্য দুনিয়াকে সোচ্চার হতে হবে।

কনজার্ভেটিভ দলের এমপি রব্বি মূর বলেছেন, বৃটিশ রাজনীতিবিদরা অন্যদেশের নীতি নির্ধারণ করে দিতে পারে না। তবে কাশ্মীরের ভয়াবহ অবস্থা সম্পর্কে তদন্ত হোক সেটা আন্তত: বলতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন পাকিস্তান ও ভারত উভয়েই ব্রিটেনের বন্ধু এবং উভয় দেশের প্রচুর সংখ্যক মানুষ ব্রিটেনে বসবাস করছে। তাদের কথা ভেবে এবং পারমানু শক্তিধর দু’টি প্রতিবেশি দেশের সংঘাতের কথা চিন্তা করে কাশ্মীর প্রশ্নে দ্রুত একটা সমাধান বের করতে হবে।

লেবার দলীয় আর একজন এমপি জন স্পেলার বলেন, আমরা ভারতের বিরুদধে নই। তাই বলে কাশ্মীরে যে নির্যাতন চালানো হচ্ছে সে সম্পর্কে ভারতকে দায়ী না করে নিরব থাকতে পারি না। কাশ্মীর বা পাঞ্জাবে ভারতীয় সৈন্যরা যে নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে তা তাদের আভ্যন্তরীন ব্যাপার বলেও মেনে নিতে পারিনা।

এ সময় ব্রিটিশ সেক্রেটারী অব ষ্টেট জাষ্টিস রবার্ট বাকল্যান্ড কাশ্মীরের ওপর থেকে সবরকম নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ভারত সরকারকে আহবান জানান। তাছাড়া দিল্লিস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দলকে অবরুদ্ধ কাশ্মীর সফর করে বাস্তব অবস্থা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ দেবারও দাবী জানান রবার্ট বাকল্যান্ড।

বিতর্কে অংশ নিয়ে ব্রিটেনের ফরেন, কমনওয়েলথ এবং উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী নাইজেল এডামস বলেছেন, দীর্ঘ বছর ধরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সংঘাতের একটি কারন হয়ে রয়েছে কাশ্মীর। তবে কাশ্মীরের জনগনের ইচ্ছা অনুযায়ী এ সংকটের সমাধান হতে হবে। .

আজাদ-কাশ্মীর প্রেসিডেন্টের সন্তোষ প্রকাশ

আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট সরদার মাসুদ খান কাশ্মীরের স্বাধীনতা ও গনতন্ত্রের পক্ষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ইতিবাচক মতামতকে দারুনভাবে প্রশংসা করেছেন।

এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সরদার মাসুদ খান কাশ্মীরিদের মুক্তির বিষয়টিকে জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তুলে ধরার জন্য আনুরোধ জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব সম্প্রদায় এতদিনে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের শঠতা ও ধূর্তমি বুঝতে পেরেছে। সত্যিকার অর্থে দক্ষিন এশিয়ায় শান্তি স্থাপনের জন্যই কাশ্মীর সংকটের সমাধার করতে হবে কাশ্মীরীদের ইচ্ছা অনুসারে। যেমনটি আগেই বলা হয়েছে জাতিসংঘের প্রস্তাবে।

কাশ্মীর ভারতের আভ্যন্তরীন বিষয় নয়: পাকিস্তান

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশী বলেছেন, কাশ্মীর প্রসংগে ব্রিটিশ পার্লামেনেটে গুরুত্বপূর্ন এ বিতর্কের মাধ্যমে তাদের পক্ষে কূটনৈতিক বিজয় সূচিত হয়েছে। কাশ্মীর যে ভারতের আভ্যন্তরীন বিষয় নয় সেটাও বিশেষভাবে প্রমানিত হয়েছে।

তবে লন্ডস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কাশ্মীর প্রসংগে আলোচনায় আবান্তর এবং তৃতীয় পক্ষের প্রচারনার বিষয়বস্তু গুরুত্ব পেয়েছে; যার কোন বাস্তব গুরুত্ব নেই।

: জানুয়ারী ১৬

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •