বার্তা পরিবেশক:
কক্সবাজার শহরের তারাবনিয়ারছড়ায় এক অসহায় পরিবারের জমি দখলের অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই নিয়ে পুলিশকে মিথ্যা দিয়ে অসহায় পরিবারের সদস্যদের মামলা দিয়ে হয়রানি এবং শারীরিকভাবে নাজেহাল করারও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী শহরের তারাবনিয়ারছড়ার স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমানের স্ত্রী আমেনা খাতুন জানান, তার স্বামী আবদুর রহমান থেকে ২০১০ সালে ছোট মহেশখালীর নলবিলা এলাকার মৃত মোজাফ্ফর আহামদের ছেলে ফরিদুল ইসলাম ৭ কড়া জমি বায়না করেন। সে সময় কথা অনুযায়ী আরো ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রি নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দীর্ঘ ১০ বছরেও রেজিস্ট্রি নেননি। বর্তমানে আমেনা খাতুন স্বামী মারা যাওয়ার পরে সেই ফরিদুল ইসলাম জমি দখল নিতে আসে। তাই এলাকার সমাজ কমিটির সভাপতিসহ গন্যমান্য লোকজন বসে বৈঠকে বসা হয়। বৈঠকে ফরিদুল ইসলাম বাকি টাকা দিয়ে আমেনা খাতুনের ছেলে ও মেয়েদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি নিয়ে জমির দখলে আসবে। কিন্তু তা না করেই ফরিদুল ইসলাম ভাড়াটে লোকজন নিয়ে জমি দখল করার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় আমেনা খাতুন সদর থানায় সাধারণ ডাইরী করেছিলেন।

ডায়রি করার গত ১৫ ডিসেম্বর ফরিদুল ইসলাম মহেশখালী থেকে ৩০/৪০ জন লোক নিয়ে এসে আমেনা খাতুনকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে জমি দখল করতে রট, সিমেন্ট, টিন নিয়ে এসে জোর করে জমি দখল করতে চেষ্টা করে। পরে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে তারা সফল না হওয়ায় থানাতে আমিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সম্পূর্ন মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যা বর্তমানে আমরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছি।

আমেনা খাতুন বলেন, গত ২১ ডিসেম্বর আমরা কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জমিতে প্রবেশ না করতে নিষেধাজ্ঞাও নিয়েছি। সেটা না মেনে ফরিদুল ইসলাম গং সব সময় আমাদের জমি দখল করতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বারবার হামলা করছে। তবে এখানে সব চেয়ে আতংকের বিষয়ে হচ্ছে কক্সবাজার সদর থানার এস আই আবুল মনছুর মির্জা নামের একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রায় সময় আমাদের বাড়িতে এসে আমাদের হুমকি ধমকি দেয় এবং ঘরে থাকা মহিলাদের বের করে দিয়ে ধাক্কা দিয়ে থাকে। সেই পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের আরো বিভিন্ন মিথ্যা মামলার আসামী করার হুমকি দিয়ে থাকে এবং জমি খালি করে দিয়ে হুমকি দেয় যা খুবই দুঃখ জনক।

এ ব্যপারে স্থানীয় সমাজ কমিটি, মসজিদ কমিটির নেতারা বলেন, ফরিদুল ইসলাম জমিটি বায়না করেছিল ১০ বছর আগে। বর্তমানে সেই বায়না দাতা মারা গেছে সে হিসাবে উনার বায়না কার্যকর নাই। আমরা স্থানীয় সালিশে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম ১০ বছর আগে যে দাম ধার্য্য ছিল সেই দামের বাকি টাকা দিয়ে আবদুর রহমানের ওয়ারিশদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি নিতে তিনি সেটা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেটা না করে থানা পুলিশকে ব্যবহার করে তিনি গরীব অহসায় মানুষের উপর চরম নির্যাতন করছে যা অন্যায়। আর পুলিশের ভুমিকা খুব রহস্যজনক।

এ ব্যপারে পুলিশের এস আই আবুল মনছুর মির্জা বলেন, আমরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গেলে বাড়ির মহিলারা চরম বেয়াদবি এবং গালিগালাজ করে। আর তাদের নোটিশ দিলেও আসে না।
ফরিদুল ইসলামের রেজিস্ট্রি নেওয়া সহ অন্যান্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমি নিয়ে নানান সমস্যা থাকতে পারে সেটা বসে সমাধান করতে হবে। তবে উনার জমি নিয়ে বিরোধ মিমাংসা করার এখতিয়ার আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেন নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •