ডেস্ক নিউজ:
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সরকারিভাবে টিকা প্রদান শুরুর পর দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও শর্ত সাপেক্ষে টিকা দিতে পারবে। সেজন্য টিকা আমদানি এবং কীভাবে সেটা প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও বিতরণ সংক্রান্ত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড নামের ভ্যাকসিনটি দেশে আসবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গত ১১ জানুয়ারি বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে জাতীয়ভাবে টিকাদান কর্মসূচি চলবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালার মধ্যে সবকিছু থাকবে। তারা কীভাবে টিকা দেবে, কীভাবে হিসাব রাখবে, কী দামে দেবে— এ বিষয়গুলো ঠিক করে দেওয়া হবে। এছাড়াও ঠিক করে দেওয়া হবে— কোন হাসপাতালের মাধ্যমে, কোন ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে অন্তত ১৪-১৫ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ রাখার ব্যবস্থা সরকারের হাতে রয়েছে। কাজেই দেশে ৪-৫ কোটি ভ্যাকসিন চলে এলে সেগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগে কোনও সমস্যা হবে না।’

সভায় ভ্যাকসিন প্রদানে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো থেকেই ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।’

জেলা পর্যায়ের প্রতিটি হাসপাতালে সংরক্ষিত কোল্ড রুমে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রতিটি হাসপাতালে পাঁচ থেকে ১০টি আইস ফ্রিজার আছে, যেখানে অন্তত ৭১ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন রাখা যাবে। প্রাথমিকভাবে সারা দেশে বর্তমানে সাত হাজার ৩৪৪টি টিম ভ্যাকসিন প্রদানে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ছয় জন স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করবেন।’

তাদের পাশাপাশি, ভ্যাকসিন প্রদানে প্রায় ৪২ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভ্যাকসিন প্রদান সংক্রান্ত একটি অ্যাপ আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তৈরি প্রায় চুচূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জাহিদ মালেক।

ভ্যাকসিন প্রদানে কোনও অনিয়ম যাতে না হয়, সেজন্য দেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর কঠোরভাবে মনিটরিং করবে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সকল তথ্য যেন মানুষ দ্রুত জানতে পারে, সেজন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্যাকসিন বুলেটিন প্রচার করা হবে।’

সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •