পনার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এবং বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন- এটি হার্ট অ্যাটাক নাকি প্যানিক অ্যাটাক?
হার্ট অ্যাটাক এবং প্যানিক অ্যাটাকের মধ্যে পার্থক্য করা বেশ কঠিন হতে পারে। কারণ দুটোর লক্ষণ কম-বেশি একই রকম। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি প্যানিক অ্যাটাকের প্রধান কারণ। তবে তা হার্ট অ্যাটাকের কারণও হতে পারে। উদ্বিগ্নতায় ভোগা বেশিরভাগ লোককে জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত। প্যানিক অ্যাটাক এবং হার্ট অ্যাটাকের পার্থক্য জানা আমাদের জন্য বেশ জরুরি।

হার্ট অ্যাটাক কী?
হার্ট অ্যাটাক হয় যখন হার্টে রক্ত এবং অক্সিজেন সরবরাহ করার ধমনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়। এটি হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলিতে রক্ত এবং অক্সিজেনের প্রবাহকে সংকীর্ণ করে তোলে। কিছু হার্ট অ্যাটাক তাৎক্ষণিক এবং মারাত্মক হতে পারে। আবার এর বাইরেও বড় কোনও ঘটনা যা জীবনযাত্রা এবং ডায়েটে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কারণে অ্যাটাক ঘটতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. বুকের ভেতর অস্বস্তি
২. বুকের উপরিভাগ ভারী মনে হওয়া
৩. বদহজম
৪. শ্বাসকষ্ট

প্যানিক অ্যাটাক কী?
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং তীব্র ভয়; যা কয়েক মিনিটের মধ্যে মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গেলে প্যানিক অ্যাটাক দেখা দিতে পারে। বাড়িতে কিংবা কর্মক্ষেত্রে আতঙ্কজনক কোনও ঘটনার সম্মুখীন হলে এটি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে প্যানিক অ্যাটাকের কোনও সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না।

সাধারণ লক্ষণগুলো হলো-
১. বুকে ব্যাথা
২. হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি
৩. অতিরিক্ত ঘাম
৪. মৃত্যুর ভয় ভর করা
৫. মাথা ঘোরা

পার্থক্য
যদিও উভয় দশার লক্ষণগুলো প্রায় একই, তবে তাদের ফলাফল একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। প্যানিক আক্রমণে কেউ হয়তো শ্বাসকষ্টটাকে কিছুক্ষণের মধ্যেই কমিয়ে আনতে পারে। তবে হার্ট অ্যাটাক জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি। হার্ট অ্যাটাক এবং প্যানিক অ্যাটাকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিল হলো বুকে ব্যথা। ব্যথার বৈশিষ্ট্যগুলো উভয় ক্ষেত্রে প্রায়ই পৃথক হয়।

হার্ট অ্যাটাকে বুকের ব্যথা মাঝ থেকে শুরু হয় এবং বাহু, চোয়াল বা কাঁধের দু’দিকে ছড়িয়ে পড়ে

প্যানিক আক্রমণে বুকের মাঝখানে তীক্ষ্ণ এবং ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা অনুভূত হয়। অপরদিকে হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে বুকের দিকে চাপ অনুভূত হয়। হার্ট অ্যাটাকে বুকের ব্যথা মাঝ থেকে শুরু হয় এবং বাহু, চোয়াল বা কাঁধের দু’দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •