সিবিএন ডেস্ক:
দেশের সবচেয়ে শীতলতম মাস জানুয়ারি হলেও এবার চিত্র পুরো উল্টো। গত ১২ থেকে ১৫ দিন ধরে ক্রমাগত তাপমাত্রা বাড়ছে। এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করেছে ৩০ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। নেই শৈত্যপ্রবাহের দেখা।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জানুয়ারিতে এমন তাপমাত্রা অস্বাভাবিক। ভারতীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘোর শীতের মধ্যেও এমন অস্বাভাবিক তাপমাত্রা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়ার এ আচরণের ব্যাখ্যা দিয়ে শনিবার (৯ জানুয়ারি) আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৬ ডিগ্রি বেশি। দিনের তাপমাত্রা ঢাকাতে ৫ ডিগ্রি বেশি, আর রাতের তাপমাত্রা বেশি হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি। এটা অস্বাভাবিক, মানে গরমের মতো হয়ে গেছে। শুধু এখানে (ঢাকা) না, পুরো দেশেই এই অবস্থা ।’

জলবায়ুগত পরিবর্তনের প্রভাবে এমনটা হচ্ছে উল্লেখ করে এ আবহাওয়াবিদ বলন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। ২০২০ সালে প্রকাশিত উপমহাদেশের জলবায়ু পবির্বতন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পড়লাম। ওখানে দিল্লি থেকে বা হিমালয় পাহাড়ের নিচ থেকে পুরো বাংলাদেশকে হিন্দুকোষ বলা হয়েছে। হিন্দুকোষের ১৯৫০ সাল থেকে ২০১৫ সালের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাপমাত্রা বেড়ে গেছে প্রায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মানে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। এর প্রভাবই এখন পড়ছে। এ বছর হঠাৎ গরম পড়ে গেছে। আবার কোনো কোনো বছর এমন ঠাণ্ডা যাবে যে…। মানে তীব্র ঘটনাগুলো বেশি ঘটবে।’

এবার জানুয়ারি এতটা গরম হওয়ার কার্যকারণ ব্যাখ্যা করে বজলুর রশিদ বলেন, ‘শীতের যে ক্রাইটেরিয়া (নির্ণায়ক) স্বাভাবিকভাবে সেটাকে আমরা বলি উচ্চচাপ বলয়। অনেক উপর থেকে হিমেল বাতাস নিচের দিকে ঢোকে, বা উপর থেকে ঠাণ্ডা বাতাস নিচের দিকে ঢোকে। কোনো কারণে পশ্চিমা লঘুচাপ থাকলে শীতে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হয় বা গরম আবহাওয়া বিরাজ করে। শীতে মাঝে মাঝে পশ্চিমা লঘুচাপ এসে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বা তাপমাত্রা বাড়ে। পশ্চিমা লঘুচাপ প্রধানত উৎপন্ন হয় ভূ-মধ্যসাগর থেকে। সেখান থেকে লঘুচাপ পূর্ব দিকে এসে কাজাখস্তান, ইরান, আফগানিস্তানে এসে দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এর একটা হিমালয় পাহাড়ের উত্তর দিয়ে চলে যায়, আর একটা দিল্লি হয়ে উত্তরপ্রদেশ হয়ে বিহার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর পশ্চিমা লঘুচাপ আসার পরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান অঞ্চলে এসে আর নড়াচড়া করছে না। এর প্রধান কারণ আরবিয়ান সাগর থেকে জলীয়বাষ্প পেয়েছে, যে কারণে সেটা ওখানে অবস্থান করছে। অবস্থান করার কারণে সেটা ওখান থেকে ব্লক করে দিয়েছে। ফলে দিল্লিতে অনেক ঠান্ডা। দিল্লির পরে উত্তরপ্রদেশ থেকে আর ঠান্ডা নেই। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, বাংলাদেশে গরম। ওখানে যেহেতু ব্লক হয়ে গেছে, ওটা না ছাড়ার কারণে ঠান্ডা বাতাস আর ঢুকতে পারছে না। শীতকালে জলীয়বাষ্প আসলে সাধারণত সেটা তিন থেকে চারদিন থাকে। কিন্তু এ বছর দেখা যাচ্ছে প্রায় ১৫ দিন এরকম হয়ে গেছে। আশা করা যায় আরও দুই দিন লাগবে ওটা কাটতে।’

বজলুর রশিদ বলেন, ‘এর কারণ হচ্ছে উইন্ড (বাতাস) প্যাটার্ন পরিবর্তন হয়ে গেছে। সাধারণত বাতাসটা এ সময় উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসে। পশ্চিমা লঘুচাপ যদি আরব সাগর থেকে জলীয়বাষ্প পেলে ওখানে স্থির হয়ে থাকে। যেহেতু বাতাসের ধরন পরিবর্তন হয়ে গেছে, তাই সেটা দীর্ঘসময় সেখানে অবস্থান করছে। সেজন্য সারাদেশের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •