রিয়াজুল হাসান খোকন, বাহারছড়া, টেকনাফ:

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান (পিপিএম) বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে। প্রয়োজনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। সঠিক তথ্যের ভিক্তিতে পুলিশ মাদক বিরুধী অভিযানে গেলে সেখানে যদি কোনো প্রভাবশালী বা মাদক কারবারীরা বাধা প্রদান করে তাহলে পুলিশ তাদের পাল্টা জবাব দিবে। সরকার আমাদের ট্রেনিং ও অস্ত্র দিয়েছে জনগণের জানমাল রক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদানের জন্য। সেখানে আমাদের উপর হামলা আসলে আমরাও আত্ন রক্ষার জন্য কঠোর অবস্থানে যাব। ইতিমধ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়ে গেছে।

৯ জানুয়ারী শনিবার টেকনাফ মডেল থানার আওতাধীন বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উদ্যোগে স্থানীয় শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত “বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী আলোচনা সভায় জেলা পুলিশ সুপার এই কথা বলেন।

পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে আরো বলেন, আমরা আপনাদের সেবক। সহজ ভাষায় বলতে গেলে আমরা আপনাদের চাকর। সরকার আমাদের দামী গাড়ি দিয়েছে যাতে দ্রুত আপনাদের সেবা করতে পারি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন তোমরা রাষ্ট্রের পুলিশ, তোমরা জনগনের সেবক। আমরাও জাতির জনকের এই কথার বিশ্বাসী। অতীতের কমিনিউটি পুলিশিংয়ের চেয়ে বিট পুলিশিংয়ে জনগণ আরো দ্রুত সেবা পেতে সক্ষম হবে। আমরা ফোর্সদের ওয়ার্ড ভিত্তিক এলাকা ভাগ করে দিয়েছি। তারা যে কোনো বিপদে জনগণের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দিবে।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, বিপদগামী কোনো পুলিশ সদস্যের দায় পুরো বাহিনী নিবেনা। কিছু কুলাঙ্গারের জন্য পুরো বাহিনীর সুনাম নষ্ট হতে পারেনা। বর্তমানে থানায় কোনো টাউট বাটপার ও দালালের স্থান হবেনা। যদি কোনো পুলিশ সদস্য কোনো মাদক ব্যবসায়ী, টাউট, বাটপারদের সাথে মেলামেশা করে তাহলে সরাসরি আমাকে ফোন করে জানিয়ে দিন। ঘটনা সত্য হলে সেই পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হবে। আমরা কলঙ্কমুক্ত থেকে একটি জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হতে চাই। থানায় মামলা বা জিডি করতে কোনো টাকা লাগবেনা। কেউ টাকা দাবী করলে আমাকে ফোন করে জানান। পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার বাহারছড়াসহ পুরো টেকনাফে মাদক ব্যবসা বন্ধ করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আলেম, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। কেউ মাদকের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য দিয়ে থাকলে তার পরিচয় গোপন রাখা হবে। প্রয়োজনে তাকে আমরা নিরাপত্তা দিব। পুলিশ সুপার শীঘ্রই বাহারছড়াসহ পুরো টেকনাফের মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন। কেউ যদি মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে, একদিন সেই মাদকের থাবায় প্রতিবাদ না করা মানুষের ঘরেও আগুন জ্বলতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি মানবপাচার ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকব।

উক্ত মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) শাকিল আহমদ(বিপিএম-সেবা), টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হাফিজুর রহমান, টেকনাফ বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি) নুর মোহাম্মদ, বাহারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল কোম্পানি, শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম, এ মনজুর, শামলাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব ক্বারী ইউছুফ জামিল, বাহারছড়া ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছৈয়দ আহমদ, বাহারছড়া ১,২,৩,নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগম সহ প্রমুখ।

এছাড়া  আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাহারছড়ার বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, আলেম, রাজনৈতিক কর্মী, নারী সমাজের প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন পেশার শতশত মানুষ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •