সংবাদদাতাঃ
কক্সবাজার শহরের অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাইটহাউস মাদরাসার পরিচালক পদে মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
নানা ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ প্রায় দুই বছর হয়রানির পর ছাত্র-শিক্ষক, এলাকাবাসী, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার শুরা সদস্যদের আহবানে সাড়া দিয়ে শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এদিকে, পরিচালক পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাতে মাদরাসায় পৌঁছলে তাৎক্ষণিক দেয়া সংবর্ধনাকালে স্থানীয় কাউন্সিলর কাজী মোর্শেদ আহমদ বাবুসহ শুরা কমিটির সদস্য ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কাউন্সিলর কাজী মোর্শেদ আহমদ বাবু বলেন, শুরা কমিটির সদস্য, ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় পুনরায় মাদ্রাসা পরিচালনায় মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ দুই বছর যাবত এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এভাবে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, সকলের প্রচেষ্টায় মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে ছাত্রদের লেখাপড়া ও মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
প্রয়োজনে আমরা পূর্বের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন আঙ্গিকে শুরা কমিটিকে ঢেলে সাজাবো।
জননেতা বাবু বলেন, দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি মাদ্রাসায় পদার্পণ করলে ছাত্র শিক্ষক ও সর্বসাধারণের মাঝে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ তাদের প্রিয় অভিভাবককে ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা।
উপস্থিত শুরা সদস্য ও ওলামায়ে কেরাম পুনরায় মাদ্রাসার উন্নয়ন কর্মকান্ড ও পড়ালেখা গতিশীল করতে এলাকাবাসীসহ সকলকে প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানান।
সংবর্ধিত মাওলানা মোহাম্মদ আলী বলেন, নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার মান, ছাত্রদের থাকা-খাওয়াসহ সকল সমস্যা সমাধানে আপনাদের সকলের সহযোগিতা একান্ত কামনা করছি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বাদে জুহর হেফাজত নেতা আনস মাদানিসহ আরো কিছু লোক মাদরাসায় জোরপূর্বক বৈঠক করতে গেলে বাধার মুখে পিছু হটে। ক্ষুব্ধ হয় সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ।
পূর্ব কোন ঘোষণা বা নোটিশ ছাড়া অবৈধ শুরা কমিটির মিটিং করতে চাইলে ছাত্র- শিক্ষক, পরিচালনা পরিষদ ও এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা মাদরাসা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসায় অচলাবস্থার জন্য কিছু দুষ্কৃতিকারীকে দায়ি করা হয়। যাদের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐতিহ্যবাহী মাদরাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম আজ তলানিতে। কিতাব বিভাগে রয়েছে মাত্র ১৮ জন ছাত্র। ৬ মাসের অধিক সময় বকেয়া রয়ে গেছে ২০ জন শিক্ষকের বেতন।
কাওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মদারিস ও শুরা কমিটির মনোনীত মুহতামিম হচ্ছেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
তাকে অবৈধভাবে সরিয়ে রাখার পেছনে একটি শক্তিশালী চক্র জড়িত ছিল। অথচ মাওলানা মুহাম্মদ আলীকে মাদরাসার উন্নয়নের রূপকার হিসেবে সবাই জানে।
শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল করার ক্ষেত্রে যার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি তাকে অপসারণের এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টা ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকাবাসী বিশেষ করে কক্সবাজারের সকল শান্তিপ্রিয় জনতা, ওলামায়ে কেরাম ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •