রিয়াজ উদ্দিন, পেকুয়া :

পেকুয়ায় ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও কলেজ পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের ৪জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে আপন বড় ভাই ও তার ছেলেরা। বৃহষ্পতিবার বিকেল ৪ টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ঘাট মাঝিরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ওই এলাকার মৃত,নুর আহমদের ছেলে মো.আক্কাস (৫০), স্ত্রী রাশেদা বেগম (৪৫), মেয়ে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকুলীয় কলেজের শিক্ষার্থী মনিফা আক্তার (১৭) ও মোশারফা (২০)। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী আক্কাস ও রাশেদা বেগমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। পেকুয়া সরকারী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমকি চৌধুরী জানায়,আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা মারাত্মক। শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা জখম রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, বসতভিটার জায়গা নিয়ে মো.আক্কাস ও বড় ভাই আকতার হোসেন গংদের বিরোধ রয়েছে। আহত আক্কাস জানায়, বিকেলে উঠানের এক কোনে ছাগল রাখার জন্য একটি বাসা (ছোট ঘর) তৈরী করছিলাম। গ্রাম পুলিশ এসে বাসা তৈরী করতে নিষেধ করে। আমরা কাজ বন্ধ করে দিই। গ্রাম পুলিশ চলে গেলে বড় ভাই আকতার এসে বাসাটি ভেঙ্গে দেয়। প্রতিবাদ করলে আকতার তার ছেলে মোকাদ্দেস, আজগর, মনির, মোস্তাফিজ এসে আমাকে এলোপাতাড়ি দা দিয়ে কোপাতে থাকে। এ সময় স্ত্রী-মেয়েরা উদ্ধারে এগিয়ে আসলে তাদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। প্রত্যক্ষদর্শী জিয়াউর রহমান, আবুল শামা, নুরুল হোসেন, ফাতেমা বেগম, নিলুফা আক্তার, রুবি আক্তার, শিমু ও হানিফা জানায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে বসতভিটার জায়গার বিরোধ রয়েছে। ছাগল রাখার ঘর নিমার্নকে কেন্দ্র করে আক্কাস ও বড় ভাই আকতার গংদের বাকবিতন্ডা হয়। এসময় আকতার ও তার ছেলেরা ধারালো দা, লোহার রড দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। হামলায় কলেজ ছাত্রীও আহত হয়েছে। তারা ছাগল রাখার ঘরটি গুড়িয়ে দিয়েছে। হামলাকারীরা হিং¯্র ও ঝগাড়ে লোক। গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে মারপিট শুরু হয়েছে। মগনামা ইউপির গ্রাম পুলিশ আবু ছালেক, নয়ন ও রুজিনা আক্তার জানায়, চেয়ারম্যান স্যার আমাদের সেখানে পাঠায়। ঘর নির্মান না করতে নিষেধ করে চেয়ারম্যানের স্যারের সাথে দেখা করতে বলে চলে এসেছি। পরে কি হয়েছে জানিনা। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানায়, বিষয়টি শুনেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •