আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি, এমনিতেই ক্ষমতা থেকে চলে যেতেন ট্রাম্প। কিন্তু পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় এই সময়টুকুও অপেক্ষা করতে চান না অনেক আইন প্রণেতা। তারা বলছেন, ট্রাম্পের উস্কানিতেই পার্লামেন্টে হামলা করেছে তার সমর্থকরা। সুতরাং গণতন্ত্র রক্ষার দৃষ্টান্ত হিসেবে তাকে ক্ষমতা থেকে বরখাস্ত করতে হবে।

এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকেই। এই সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যদি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন তাহলে তাকে সরিয়ে অন্য কাউতে দায়িত্ব দেয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে ক্যাবিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যকে এ ব্যাপারে একমত থাকতে হবে। রাজি থাকতে হতে হবে ভাইস প্রেসিডেন্টকেও।

ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় যারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এমন নিন্দার পর ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাবিনেটে ট্রাম্পকে সরানোর দাবি উঠলে তার বিরোধিতা করবেন না পেন্স। এমতাবস্থায় ট্রাম্পকে সরিয়ে পেন্সকে প্রেসিডেন্ট করার আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে তাকে সরিয়ে দেওয়ার এই দাবি তুলেছেন ইইউ-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাদেক সিকোরস্কি। এই তালিকায় আরো আছেন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যানুফ্যাকচারার্সের প্রধান, এনএএসিপির প্রধান এবং ভেরমন্টের রিপাবলিকান গভর্নর। তারা বলছেন, ট্রাম্পের জন্যই প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হোক সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী।

এদিকে পার্লামেন্ট ভবনে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। আহত আরো কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটন পুলিশের বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে বিবিসি। সংঘর্ষের ঘটনার পর ওয়াশিংটনে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয়কে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী স্থানীয় বুধবার (৬ ডিসেম্বর) অধিবেশনে বসেন আইন প্রণেতারা। ওয়াশিংটনের পার্লামেন্ট ভবনে এ নিয়ে যখন তর্ক-বিতর্ক চলছে, তখন হঠাৎ করেই শত শত ট্রাম্প সমর্থক ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং নজিরবিহীন তাণ্ডব চালায়। পার্লামেন্ট ভবনে তারা ব্যাপক ভাঙচুর করে।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে ট্রাম্প সমর্থকদের গুলি বিনিময় হয়। তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো ৩ জন। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে আরো শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এক পর্যায়ে পার্লামেন্ট ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয় পুলিশ। আটক করা হয়েছে অন্তত ৫৫ হামলাকারীকে।

এই ‘নজিরবিহীন’ ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাইডেন। তিনি বলেন, আমেরিকার গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে, যা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। বিক্ষোভ প্রদর্শনের স্বাধীনতা সবার আছে কিন্তু এটা বিক্ষোভ হতে পারে না বরং এটা সুস্পষ্ট বিদ্রোহ। একই সঙ্গে আমেরিকার গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ। এই অচলাবস্থার অবসানের জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •