চকরিয়া সংবাদদাতা:
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চড়াঘোনাস্থ হাজী আলীম উদ্দিন চৌধুরী ওয়াকপ এস্টেট এর মতোয়াল্লী সোলতান গনি চৌধুরীর ১৭৬ একর মৎস্য ও লবণ চাষ প্রকল্পে লুটপাটের ঘটনায় ২২জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২০জনকে আসামী দেখিয়ে থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। ৪জানুয়ারী’২১ইং মামলাটি (নং ১০,জিআর ১০/২১) রুজু হয়। মামলাটি করেন মৎস্যঘের চাষী চকরিয়া পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাহারিয়াঘোনা গ্রামের আনোয়ার হোছনের পুত্র মো: জমির উদ্দিন (৩৫)। মামলায় এজাহার নামীয় আসামীরা হলেন; ছৈয়দ কফিরের পুত্র শিব্বির আহমদ, মৃত কালা মিয়ার পুত্র ছৈয়দ আলম, মৃত নুর হোছনের পুত্র মো: কাজল, মৃত কালা মিয়ার পুত্র নুরুল আবছার, মৃত ফজল রহমানের পুত্র মুছা আলম, মো: কালু প্রকাশ কানা কালুর পুত্র নাছির উদ্দিন, কাছির ফকিরের পুত্র আলী আহমদ, নবী হোসেনের পুত্র জাহিদ হাসান, মৃত মনির আহমদের পুত্র মৌলভী মমতাজুল হক, মৃত নুরুল হকের পুত্র রায়হান উদ্দিন, মুছা আলমের পুত্র আবদু রশিদ, মৌলভী আক্তার কামালের পুত্র জিকু, নুরুল আবছারের পুত্র রুবেল, মুছা আলীমের আবদুল মালেক,নজু মিয়ার পুত্র আজার আহমদ প্রকাশ আক্তার মেম্বার, মো: কালু প্রকাশ কানা কালু, মোকমান হাকিমের পুত্র মো: আলম, ইউসুফ বলির পুত্র আবদু শুক্কুর,মৃত আবদুর রহমানের পুত্র রমজান আলী, হাছিম ফকিরের পুত্র আলী হোসেন, রমজান আলীর পুত্র আবদুর রহিম, মৃত ইসমাইলের পুত্র নুরুল কবির, জাফর আলম প্রকাশ জাফর মেম্বারের পুত্র নাছির উদ্দিন, জাফর মেম্বারের পুত্র গিয়াস উদ্দিন, ইলিয়াছ মিয়াজীর পুত্র আবু সৈয়দ, মমতাজুল হকের পুত্র মোজাহিদুল হক নায়েফসহ অজ্ঞাত আরো ১৫/২০জন।

বাদী অভিযোগে জানিয়েছেন, হাজী আলীম উদ্দিন চৌধুরী ওয়াকপ এস্টেট এর মতোয়াল্লী সোলতান গনি চৌধুরী গংয়ের কাছ থেকে তিনি বিগদ ৬/৭বছর পূর্বে থেকে বর্গা লাগিয়ত নিয়ে প্রকল্পে মাছ ও লবণ চাষ করে আসছেন। বর্তমানেও চুক্তির মেয়াদ বহাল রয়েছে। লবণ ও মৎস্য চাষ মৌসুমে জমিতে মাছ এবং লবণ চাষ করছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে ঘটনার দিন ৩১ ডিসেম্বর’২০ইং রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মৎস্য ঘের ও লবণের চাষাবাদী জমিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে প্রথমে ১০/১৫রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে বর্গা চাষী বাদী জমির উদ্দিন, প্রকল্পের কর্মচারী জালাল উদ্দিন ও ছরওয়ার আলমকে দৌড়াইয়া ধৃত করে সর্বশরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে আহত করেছে। অভিযুক্তরা ঘের থেকে অস্ত্রের মুখে মৎস্য প্রকল্পের একটি আইপিএস, ব্যাটারী, হাড়ি-পাতিল, বিদ্যুতের টর্চ লাইট ৮টি, জাকি জাল ৬টি, বিহিঙ্গী জাল ৮টি, বিভিন্ন রকমের সরঞ্জামাদী, কম্বল ৫টি, পাম্প মিশিন ৮টি, নলকূপের গর্দনা ১টি, পল বোটের তক্তা, হন্তা, কোদালসহ যাবতীয় মাছ চাষের সরঞ্জামাদী, কাপড় চোপড়সহ প্রায় ২লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করে এবং ৮হাত ও ২০ হাত বিশিষ্ট রান্না ঘর, খামার বাড়ি কাটিয়া ও ভাঙ্গিয়া আরো ১লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। এছাড়া মৎস্য প্রকল্পের স্লুইচ গেইট ও পল বোট কেটে ভাংচুর করে অনুমানিক ১লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। অভিযুক্তরা বর্তমানে হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে এবং মৎস্য প্রকল্পে গেলে কিংবা কোন মামলা-মোকাদ্দমা করলে ঘেরে ঢুকতে দেবেনা এবং ঢুকলে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূক্তভোগী মৎস্য ও লবণ মাঠ প্রকল্প চাষীরা প্রশাসনের কাছে আইনী সহায়তা চেয়েছেন।

চকরিয়া থানার ওসি শাকের মো: যুবায়ের বলেন, বাদীর দায়েরকৃত এজাহারটি থানায় মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে। অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। মামলাটি তদন্তের জন্য থানার উপপরিদর্শক মো: আবু সায়েমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •