অনলাইন ডেস্ক : চুয়াডাঙ্গায় বিয়ের দুই মাস ১০ দিনের মাথায় ছেলে সন্তান জন্ম দিলেন নববধূ। গত শনিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ভিমরুল্লাহ পুরান মসজিদপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নবজাতকসহ তার মা সোনালী খাতুনকে (১৭) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নববধূ সোনালীকে রোববার দুপুর ১২টার দিকে সদর হাসপাতাল চত্বরেই তালাক দিয়েছেন স্বামী মোস্তাকিম।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ভিমরুল্লাহ পুরান মসজিদপাড়ার আব্দুল আলিমের ছেলে মোস্তাকিমের সাথে পারিবারিকভাবে দুই মাস ১০ দিন আগে বিয়ে হয় আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের ফুটবল মাঠপাড়ার আব্দুল হালিমের মেয়ে সোনালী খাতুনের। শনিবার রাতে সোনালী খাতুন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে সেখানেই ছেলে সন্তান প্রসব করেন। পরের দিন সকালে মা ও নবজাতককে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সোনালী খাতুনের স্বামী মোস্তাকিমের পরিবারের লোকজন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের এক ঘটকের মাধ্যেমে পারিবারিকভাবে দুই মাস ১০ দিন আগে মোস্তাকিমের সাথে বিয়ে হয় সোনালীর। বিয়ের পর আমরা কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি সোনালী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এখন এই সন্তান আমাদের নয়। এটি অবৈধ সন্তান।’

সোনালীর স্বামী মোস্তাকিম বলেন, ‘বিয়ের পর আমার স্ত্রী সোনালী খাতুন বিভিন্নভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। তাই আমার পক্ষে বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। সোনালী যে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, এটা আমার সন্তান নয়। তাই রোববার দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্বরে আইনগতভাবে তাকে তালাক দিয়েছি।’

সোনালী খাতুন বলেন, ‘প্রায় বছর খানেক আগে কয়রাডাঙ্গা গ্রামের ফুটবল মাঠপাড়ার প্রতিবেশী হারুনের ছেলে আশিক (২০) কিছু একটা দেখানোর জন্য আমাকে তার ঘরে যেতে বলেন। আমি সেখানে গেলে আশিক আমাকে ধর্ষণ করেন। পরে এ ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। পরে লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাইনি। আমি আমার ছেলের বাবার স্বীকৃতি চাই। রোববার দুপুরে জোরপূর্বক আমার স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে আমার স্বামী তালাক দিয়েছেন। তালাক দিলেও এখনো দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করেনি।’

মোস্তাকিমের বাবা বলেন, ‘বিয়ের পর সোনালী খাতুন কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। শনিবার রাতে ছেলে সন্তান প্রসব করেন তিনি। এটা আমার ছেলের সন্তান নয়, অবৈধ সন্তান।’

সোনালী খাতুনের বাবা আব্দুল হালিম বলেন, ‘কীভাবে কী হয়েছে, এটা আল্লাহ জানেন। যাই হোক সন্তান তার বাবার পরিচয়টা যেন পায়, এ জন্য আমি আইনের আশ্রয় নিব।’

সোনালী খাতুনের বরাত দিয়ে তার মা বলেন, ‘প্রায় বছর খানেক আগে প্রতিবেশী হারুনের ছেলে আশিক আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এরপর আমার মেয়েকে হুমকি-ধামকি দেয় কাউকে কিছু না বলার জন্য। আমার মেয়ে লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি।’

এলাকাবাসী জানান, ‘দুই মাস আগে বিয়ে হলে ছেলে পক্ষ এত দিন কিছু বলেনি কেন? শারীরিক গঠন দেখেও তো তারা বুঝতে পারত। হাসপাতালের মধ্যেই তড়ি-ঘরি করে কেন তালাক দিল, তাও দেনমোহরও পরিশোধ না করেই।’

তারা আরো বলেন, ‘মেয়েটির যখন বিয়ে হওয়ার সময় তিনি প্রায় সাত মাসের গর্ভবতী। মেয়ের মা জেনেশুনে কেনই বা বিয়ে দিলেন। এখানে নিশ্চয় উভয়পক্ষই বিষয়টি জানত।’

এ দিকে সোনালী খাতুনের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। মেয়েকে লোকলজ্জা থেকে বাঁচাতে গিয়েছেন আশিকের কাছে। এ নিয়ে কয়রাডাঙ্গা এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত আশিক ও তার পরিবারের সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আলুকদিয়া গ্রামের এক ঘটকের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যায় মেয়ে ও তার পরিবার। শনিবার রাতে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন সোনালী খাতুন। তবে বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়েছে।

এ দিকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর উভয় পক্ষের মীমাংসা হওয়ার কথা বললেও দুপুরে ছেলে পক্ষের পরিবারের সদস্যরা সোনালীকে তালাক দেয়।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

  •  নয়াদিগন্ত
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •