শাহেদুল ইসলাম মনির, কুতুবদিয়া:

উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ তিন দিকে বঙ্গোপসাগর আর প‚র্বে কুতুবদিয়া চ্যানেল। মধ্যিখানে প্রায় ২১৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে সাগরের বুকে ভেসে থাকা একটি দ্বীপ কুতুবদিয়া।

কক্সবাজার মতোই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত এখন কুতুবদিয়ার সমুদ্রসৈকতও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় ওঠে এই সমুদ্র সৈকতকে নিয়ে।

অনেকে ধারণা করেন সরকার নজর দিলে কুতুবদিয়া সমুদ্রসৈকত দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে পর্যটকদের।

লোকদের মুখে প্রচলিত রয়েছে, অনেক আগেও দেশের মানুষ সমুদ্রের নির্মল বায়ু সেবনের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের মধ্যে কুতুবদিয়াতেই বেশি আসত। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ,কবি নবীন চন্দ্র সেন সহ অনেক নামীদামী ও জ্ঞানীগুনী দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ সময়ে সময়ে কুতুবদিয়াতে আসতেন।

ধুরুং থেকে বড়ঘোপ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতের দৃশ্য খুবই মনোরম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতায় বন বিভাগ ইদানিং যে ঝাউবন সৃজন করেছে তা দেখে যে কোন পর্যটকের প্রাণ জুড়িয়ে যাবে নিঃসন্দেহে।

যখন বিকালে জেলেরা ছোট ছোট নৌকায় করে মাছ ধরে যখন একসাথে তীরের দিকে আসতে থাকে সে দৃশ্যে পর্যটকেরা চমৎকৃত না হয়ে পারেনা । শত শত জেলে নৌকা একযোগে যখন তীরে ভিড়তে শুরু করে তখন মনে হয় যেন বিশাল নৌ-বাহিনীর সেনারা যুদ্ধ জয় করে মনের আনন্দে বন্দরে ফিরেছে।

কক্সবাজারের কুয়াকাটার মত কুতুবদিয়াতেও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত একস্থান থেকে উপভোগের সুযোগ আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রকোপ আর লকডাউনের উপেক্ষা করে নতুন বছরকে স্বাগত যানাতে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে পর্যটক আসতে শুরু করছে কক্সবাজার জেলার দ্বীপ কুতুবদিয়াতে।

এখনে পর্যটকদের আকর্ষণে রয়েছে সবুজ শ্যামল প্রকৃতি,সোনালি ধান এবং বাতিঘর, বায়ুবিদ্যুৎ, সিটিজেন প্যাক, হাজার বছরের পুরনো আমজাখালী ফকিরা মসজিদ, কুতুব অউলিয়ার মাজার, মালেক শাহর মাজার ইত্যাদি।

এই বিষয়ে ৫নং বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহীদ উদ্দীন ছোটন বলেন, পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে কাজ চলছে সমুদ্রসৈকতে।

আর স্থানীয় প্রশাসন নতুন এই পর্যটন স্পটকে সাজাতে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •