সিবিএন ডেস্ক:
ভারতে অনুমোদন পাওয়ায় টিকা কার্যক্রমে একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশও। ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদফতর ভ্যাকসিন বিষয়ক জাতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। পাঠানো হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাতেও। জাতীয় পরিকল্পনাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের নিবন্ধন হবে অনলাইনে। আর এজন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে নিবন্ধন করতে হবে অ্যাপে।

নতুন বছরের প্রথম দিনেই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে ভারত। এখন ড্রাগ কন্ট্রোলারের অনুমোদন পেলেই টিকাদান শুরু হবে। কবে থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে তা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়ে দেবে।

অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন চলতি মাসের শেষেই বাংলাদেশ পেতে পারে বলে আশা করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

ভ্যাকসিন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ১৫ ধরনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে টিকা প্রদানে প্রচলিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোকেই ব্যবহার হবে বেশি।

করোনার এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালিত হবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সার্ভিস (এমআইএস)-এর অধীনে। তাদের সঙ্গে থাকবেন তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এটুআই। টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন হবে অনলাইনে। এ জন্য একটি অ্যাপ বানানো হচ্ছে।

এমআইএস-এর পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নিবন্ধনের কার্যক্রম চলছে। এ লক্ষ্যে একটি অ্যাপ ডেভেলপেমেন্টর কাজ প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই এটা সম্পন্ন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অ্যাপ তৈরি হলেই পুরো প্রক্রিয়া বোঝা যাবে। তবে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হবে।

ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো ঠিক করা আছে। কারা নিবন্ধন করবেন সেটাও বলে দেব। শর্ত মেনে যখন কেউ নিজেকে টিকা নেওয়ার জন্য যথাযথ ভাববেন তখন নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানাসহ সব কিছু দিয়ে নিবন্ধন করবেন। তার সেটা আমাদের সিস্টেমে চলে আসবে।

রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পর কোন তারিখে নিবন্ধনকৃত ব্যক্তি টিকা পাবেন সেটা ফোনে এসএমএস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এই ভ্যাকসিনের দুই ডোজ দেওয়া হবে। প্রথমে ডোজের ২৮দিন পর দ্বিতীয় ডোজ। আর প্রথম ডোজ দেওয়ার সময় ভ্যাকসিনগ্রহীতাদের একটি করে কার্ড দেওয়া হবে। বললেন ডা. হাবিবুর রহমান। কার্ডে প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের জন্য পৃথক দুটো রং ব্যবহার করা হবে।

করোনার এই ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য দেশের প্রায় ছয় হাজার ৩০০টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ, ২৫০টি জেলা হাসপাতাল, ১০-২০ শয্যার হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, পুলিশ হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সচিবালয় ক্লিনিক, বন্দর হাসপাতাল, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, বিশেষায়িত হাসপাতাল, ইউনিয়ন পরিষদ, সংক্রামক ব্যধি হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন হাসপাতাল।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ মাসের শেষের দিকে ভ্যাকসিন দেশে আসতে পারে। কিন্তু ভ্যাকসিনের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন নিয়ে একটু ঝামেলা হতে পারে।’

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ডিজিটালাইজেশন এখনও এত বেশি উন্নত হয়নি। যেখানে এর ব্যত্যয় ঘটবে সেখানে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করার ব্যবস্থা রাখা দরকার ‘

তবে সম্প্রতি অনেক কিছুই উন্নত হয়েছে মন্তব্য করে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যুক্তরাজ্যফেরতদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন ও জেলা হাসাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো হচ্ছে।’

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নতুন কিছু শুরু করতে গেলে একটু সমস্যা হবেই। আমরা এখনও আগে থেকে জানি না, কী সমস্যা হতে পারে।’

‘দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র করতে গিয়েও সমস্যা হয়েছে। তাই ভ্যাকসিন বিষয়ক সবকিছুর জন্য মহড়া দিতে হবে। সফটওয়্যার চালুর পর ট্রায়াল, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করতে হবে। কারণ পরিচয়পত্রে অনেকেরই অনেক সমস্যা থাকে। সেসবের সমাধান করে কার্যক্রম শুরু ‍করতে হবে বলে জানান ডা. মুশতাক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভ্যাকসিনের নিবন্ধনের জন্য জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি হয়েছে। এখানে যাতে কোনও অব্যবস্থাপনা না হয় সেজন্য আমরা বিশেষ নজর রাখবো।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •