আরটিভি : ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ টহল দিচ্ছে। উপরে কাঁটাতারের বেড়া থাকা সত্বেও নীচে সুড়ঙ্গ করে করা হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা। ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার বালিয়ায় বাংলাদেশ সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় সন্ধান মিলেছে এ সুড়ঙ্গের। সম্প্রতি এক অপহরণ ঘটনার তদন্তে নেমে ২০০ মিটার লম্বা এই সুড়ঙ্গ পথের সন্ধান মিলে।
ভারতের পুলিশ জানায়, এই গোপন সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তের আন্তর্জাতিক অবৈধ কাজ চালাচ্ছিল দুষ্কৃতকারীরা। এ পথ দিয়েই চোরাচালান ও মানবপাচারের মতো কার্যক্রম চালাত তারা। করিমগঞ্জ জেলার বালিয়ায় বাংলাদেশ সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় পড়েছে ওই সুড়ঙ্গটি।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে আরও বলা হয়, গত রোববার (২৭ ডিসেম্বর, ২০২০) জেলার নিলামবাজার থানার সীমান্তের শিলুয়া গ্রামের বাসিন্দা দিলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে দুষ্কৃতিকারীরা তুলে নিয়ে যায়। দিলোয়ারের পরিবারের কাছে ফোন করে দুষ্কৃতিকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। অবাক করার বিষয় হল, দুষ্কৃতিকারীদের ব্যবহার করা ফোন নম্বর ছিল বাংলাদেশের। এ কারণে চিন্তায় পড়ে যায় দিলোয়ারের পরিবার। পুলিশের পরামর্শ নিয়ে মুক্তিপণ কমানোর জন্য দর কষাকষি করতে থাকেন তারা।
এদিকে অপহরণকারীরা তাদের দাবি করা মুক্তিপণে অনড়। তাই তো কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, কাউকে কোনও কিছু না জানিয়ে পার্শ্ববর্তী নয়াগ্রামের এলিমুদ্দিনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। ঠিক তখনই সূত্র পেয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ।
পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করে এলিমকে। তাকে জেরা করা হলে সুড়ঙ্গের বিষয়টি প্রকাশ হতে পারে এমন আশঙ্কায় দিলোয়ারকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। কিন্তু দিলোয়ার ছাড়া পেয়ে ঠিকই বিষয়টি অবহিত করেন পুলিশকে। দিলোয়ার আরও জানান, বাংলাদেশ প্রান্তেও এমন সুড়ঙ্গ রয়েছে। সেখান দিয়ে দুষ্কৃতীরা দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করে। এমনকি পাচার কাজও চালায়।
দিলোয়ারের দেওয়া সূত্র ধরে পুলিশ বালিয়ায় নামক গ্রামে যায়। পুলিশ সুপার ময়ঙ্ককুমার ঝা এর নেতৃত্ব দেন। জঙ্গলঘেরা ওই এলাকায় প্রায় দুইশ মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের সন্ধান পান তারা। তবে বাইরে থেকে এই পথ একদমই কল্পনার বাইরে। সুড়ঙ্গের ভারতের পথ বন্ধ করার জন্য বিএসএফ’কে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কমাণ্ডান্টের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এসব অপহরণকারীদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান ওই পুলিশ সুপার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •