জুলফিকার আলী ভুট্টো, চকরিয়াঃ
পাহাড়ের সাথে নদীর মিতালিতে অপরূপ কক্সবাজারের চকরিয়ায় নতুন পর্যটন জোন ’নিভৃতে নিসর্গ’ পার্ক উপজেলার মানিকপুরকে ঘিরে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের উজ্জল সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। বান্দরবানের আলীকদমের পাহাড় থেকে শুরু হওয়া প্রমক্তা মাতামুহুরী নদী চলার পথে মানিকপুর পাহাড়ের পাদদেশে অসম্ভব মিতালীতে মেতেছে।

একদিকে পাহাড়ের নৈগর্সিক সৌন্দর্য অন্যদিকে পাহাড়ের নীচে বেড়ে চলা মাতামুহুরী নদীর বিশাল জলরাশি গোধুলি বেলায় ভ্রমণ পিপাসুদের মাঝে অন্যরকম দর্শনীয় হয়ে উঠেছে। পাহাড় নদীর এই মিতালী স্বচক্ষে উপভোগ করতে এবং প্রকৃতির অপরূপ সানিধ্য পেতে এখন প্রতিদিনই মানিকপুর ছুটে যাচ্ছেন ভ্রমণ পিপাসু সববয়সের মানুষ।

মানিকপুরের এই দর্শনীয় পর্যটন জোনকে সত্যিকার অর্থৈ ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি সময়ে পর্যটন জোনের উন্নয়নে প্রদক্ষেপ নিয়েছেন। এরই অংশহিসেবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্তাবধানে ইতোমধ্যে গত শনিবার ২৬ ডিসেম্বর প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসন মোঃ কামাল হোসেন। এদিকে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে পরিকল্পিতভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মানিকপুর পর্যটন জোন ’নিভৃতে নিসর্গ’ পার্ক ঢেলে সাজাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে মানিকপুরের পর্যটন জোনটি বর্তমানে শৈল্পিকতায় ছোঁয়ায় নতুন রূপ পেতে শুরু করেছে।

এদিকে নতুন বছরকে গিরে শুক্রবার পহেলা জানুয়ারি চকরিয়ার মানিকপুর পর্যটন জোন ’নিভৃতে নিসর্গ’ পার্কের সুন্দর্য ও নতুন পর্যটন জোনের অপরূপ লোকেশন স্বচক্ষে দেখতে এসেছেন ২০ হাজারের ও বেশি দর্শনার্থীরা। এসময়ে বনভোজনে আসেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ ও চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো.তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা, ইতিমধ্যে তারা পর্যটন জোনে উপজেলা প্রশাসনের পরিবারের সদস্যরা নৌকা ভ্রমনে যান ও বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, এখানে অনেক দর্শনার্থীরা আসে তারা মানিকপুর পর্যটন জোনের প্রতিটি লোকেশন ঘুরে ঘুরে দেখতেছেন। এবং পাহাড়-নদীর মিতালীতে ভরপুর এই পর্যটন জোন দেখে দর্শনার্থীরা অভিভুত হয়েছেন। পাশাপাশি পর্যটন জোনের সৌন্দর্য্যবর্ধনে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের গৃহিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভুয়সী প্রশংসাও করেছেন দর্শনার্থীরা। আশাকরি নতুন এই পর্যটন জোনের বদৌলতে একটি সম্ভাবনার নতুন সুরাজপুর-মানিকপুর দেখবে দেশবাসি।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, অপরূপ মানিকপুরকে ঘিরে নতুন পর্যটন জোনের উজ্জল সম্ভাবনা দেখায় গত অক্টোবর মাসে সরেজমিন মানিকপুর পর্যটন স্পট পরিদর্শনে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরে বিষয়টি আমি চকরিয়া উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করি এবং মানিকপুরকে পর্যটন কেন্দ্র বা পর্যটন জোন ঘোষনার দাবি জানাই।

সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে ইউএনও মহোদয় সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নকে নতুন পর্যটন জোন হিসেবে ঘোষনা দেন। একইসঙ্গে তিনি আগামী দুই মাসের মধ্যে সুরাজপুর মানিকপুরকে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ উপযোগী করার আশ্বাস দেন। গত শনিবার ২৬ ডিসেম্বর প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসন মোঃ কামাল হোসেন। এরই আলোকে বর্তমানে পর্যটন জোনের আধুনিকায়নে কাজ শুরু করেছেন চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ বলেন, বছরের প্রথম দিনে নতুন পর্যটন জোন ’নিভৃতে নিসর্গ’ পার্কে এত গুলো দর্শনার্থী দেখে আমি মুগ্ধ। মানিকপুরের পর্যটন জোনকে সত্যিকার অর্থৈ ভ্রমন পিপাসু মানুষের জন্য আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই আলোকে জেলা প্রশাসনের তত্তাবধানে আমরা দ্রুতসময়ে পর্যটন জোন ’নিভৃতে নিসর্গ’ পার্কের উন্নয়নের কাজ চলমান রেখেছি।

তিনি বলেন, পর্যটন জোনটি ঢেলে সাজানো হচ্ছে সরকারি জমিতে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের এক নম্বর খাস খতিয়ানের জমিতেই নতুন পর্যটন জোনকে বিকশিত করা হচ্ছে। এখানে বেশ কটি পরিবার অবৈধভাবে বসবাস করলেও তাদেরকে আমরা স্থায়ীভাবে জমি বন্দোবস্তি দেয়ার মাধ্যমে পুর্নবাসনের আওতায় নিয়ে আসছি। সেইলক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক কাজও শুরু হয়েছে। আশাকরি এলাকাবাসি সবাই পর্যটন জোনের বিকাশে যার যার অবস্থান থেকে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।

ইউএনও সৈয়দ সামসুল তাবরীজ বলেন, আমাদের বিশেষ আহবানে মানিকপুর পর্যটন জোনের সার্বিক কার্যক্রম দেখতে এসে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক গুলশান আরা মহোদয় পর্যটন জোনের প্রতিটি স্পট ঘুরে দেখেছেন। তিনি পর্যটন জোনের সৌন্দর্য্য ও গৃহিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আশাকরি সবার সহযোগিতা থাকলে আমরা নতুন এই পর্যটন জোনকে অনন্য উচ্ছতায় নিয়ে যেতে পারবো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •