সিবিএন ডেস্ক:
রাজধানীর পল্লবীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত শেরেবাংলা টিচার্স ট্রেনিং এর অধ্যক্ষ আবুল হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও তিনি এই কলেজের একজন কেরানি ছিলেন। নিয়মিত অধ্যক্ষ দেলোর হোসেনকে নারী ঘটিত মামলায় ফাঁসিয়ে নিজেই কেরানি থেকে অধ্যক্ষ বনেছেন। যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাব সাব জানিয়ে দিয়েছে অধ্যক্ষ হওয়ার যোগ্যতা আবুল হোসেনর নেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব বিধি তোয়াক্কা না করেই বছরের পর বছর অধ্যক্ষ পদে বহাল আছেন।

সম্প্রতি নিজ কলেজের জমি প্রশাসনের দোহাই দিয়ে নিজেই দখল করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। সূত্র মতে, তিনি কোনোদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায়ও পা রাখেননি অথচ তিনি ভিজিটিং কার্ডে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইবাইস ইউনিভার্সিটির উত্তরা শাখার ডিন পরিচয় ব্যবহার করছেন।

ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত তিনি প্রথমে এখান থেকে নিজে ভুয়া ডিগ্রি নিতে এসেছিলেন। এরপর থেকে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদ মোটা অংকের বিনিময়ে সারাদেশে বিক্রি করছেন।

তার অফিস পিয়ন পাবেল রহমান জানান, স্যার এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, তাই বিশ্ববিদ্যালয় খুশি হয়ে ছাত্র প্রতি কমিশন দিয়ে থাকেন।

ইবাইস ইউনিভাসিটি ছাড়াও আরো কয়েকটি কালো তালিকাভুক্ত ভার্সিটির সনদ বিক্রি করেন আবুল হোসেন। কলেজের অধ্যক্ষ আড়ালে টাকার বিনিময়ে সনদ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। মিরপুর তিনি ভুয়া সনদের আবুল নামে বেশ পরিচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা অভিযোগ করে তারা জামাত-শিবিরের দোসর। আমাকে হেয় করার জন্য এটা একটা ষড়যন্ত্র। ভিজিটিং কার্ডে ডিগ্রি ও ডিন দাবির প্রসঙ্গে এলে তিনি ফোন কেটে বন্ধ করে দেন।

এছাড়াও তিনি রাজধানীতে তার শিক্ষক ফয়জুননেছার মাধ্যমে অনেকগুলো অবৈধ বিএড কলেজের সেন্টার খুলে বসেছেন। তিনি নিজেও কয়েকমাস আগে সনদ বিক্রির দায়ে জেলও খেটেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার কলেজে কর্মরত একজন শিক্ষক বলেন, তার নিজের সনদও সব জাল-জালিয়াতি করে অর্জন করা। তার আচার-ব্যবহার এবং লেখাপড়ার দৌরাত্মে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি যা বলেন ভুল বলেন, যা লেখেন ভুল লেখেন। এমন একজন অযোগ্য লোকের অধীনে কাজ করে আমরাও ভীষণ লজ্জিত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্ব-উদ্যোগে কখন তাকে অপসারণ করবে এই অপেক্ষায় দিন গুনছেন এখানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা।

জানতে চাইলে আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যা যা বলা হচ্ছে এর সবই মিথ্যা বানোয়াট। আর আমার যোগ্যতা না থাকলে আমি কিভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের ডিন হয়েছি। অবশ্যই যা যা ডকুমেন্ট দরকার তার সবই আমার কাছে আছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •