আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
২০২১ সালের প্রথম প্রহরে নতুন যুগের সূচনা হলো যুক্তরাজ্যে। সাড়ে চার বছরের আলোচনা-সমালোচনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটলো দেশটির।

গ্রিনিচ মান সময় রাত ১১টা থেকে ইইউ’র নিয়ম-কানুন অনুসরণ বন্ধ করে দেয় যুক্তরাজ্য। এর পরিবর্তে নতুন ভ্রমণ, বাণিজ্য, অভিবাসন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত নিয়ম চালু হয়।

প্রধানমনন্ত্রী বরিস জনসন একে ‘অসাধারণ মুহূর্ত’ উল্লেখ করে বলেছেন, আমরা আমাদের হাতে স্বাধীনতা পেয়েছি এবং এর সর্বাধিক সুবিধা নেওয়া আমাদের উপর নির্ভর করবে।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন জানিয়েছেন, বিচ্ছেদ হলেও যুক্তরাজ্য বন্ধু ও মিত্র হিসেবে থাকবে।’

২০১৬ সালে গণভোটে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের (ব্রেক্সিট) পক্ষে ভোট পড়ে। ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি রাতে দাপ্তরিকভাবে বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। এর পরবর্তী ১১ মাস ছিল পরিবর্তনকালীন সময় বা ট্রানজিশনাল পিরিয়ড। এই সময়ে উভয়পক্ষে ভবিষ্যত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে কোনো সমঝোতা পৌঁছতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত বড়দিনে এ সংক্রান্ত সমঝোতা হয় দুই পক্ষে।

নতুন চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের উৎপাদনকারীরা ইইউ’র অভ্যন্তরীণ বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এছাড়া ব্রিটেন ও এই অঞ্চলের দেশগুলোতে আমদানির ক্ষেত্রেও কোনো শুল্ক থাকছে না। তবে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের ভ্রমণের বিষয়টি কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনও অনেক কাজ বাকী রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাখাত নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। অথচ যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •