সিবিএন ডেস্ক: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর আইনে পরিণত হলো ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি। যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বাক্ষরের মাধ্যমে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হয়। সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে একমত হওয়ার পর প্রয়োজন ছিল ইইউ নেতা, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদন। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে চুক্তিটির অনুমোদন দেন যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যেরা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে উত্থাপন করা হলে সংসদ সদস্যদের ভোটে পাস হয় চুক্তিটি। এর সমর্থনে ভোট পড়ে ৫২১টি ও বিপক্ষে পড়ে ৭৩টি। এরপর হাউস অব লর্ডসেও চুক্তিটি পাস হয়। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

এই চুক্তিকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই দেশের নিয়তি এখন আমাদের হাতে রয়েছে।’

এর আগে এই চুক্তির ব্যাপারে লেবার পার্টির নেতা স্যার কেইর স্টারমার বলেছিলেন, কোনো চুক্তি না হওয়ার চেয়ে বরং এমন হালকা চুক্তি হওয়া ভালো।’ এরপর লেবার পার্টির বেশির ভাগ সংসদ সদস্যরা এই চুক্তির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।

এর আগে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি চার্লস মিশেল গত বুধবার ব্রাসেলসে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

কয়েক মাস ধরে অনেক মতানৈক্যের পর গত সপ্তাহে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে একমত হয় যুক্তরাজ্য ও ইইউ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের মধ্যকার বৈঠকে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এই চুক্তির ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়ার পরই বরিস জনসন বলেছেন, ‘এটি পুরো ইউরোপের জন্য অনেক ভালো একটি চুক্তি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের আইন ও ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছি।’

জনসন দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্য ৮৯৩ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘কানাডা ধাঁচের’ বাণিজ্য চুক্তি অর্জন করেছে এবং মৎস্য বিষয়ক চুক্তিকে আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে ধরা হয়েছে। যুক্তরাজ্য তার পানির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে।’

যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে, ‘আমরা আমাদের অর্থ, সীমানা, আইন, বাণিজ্য এবং মাছ ধরার অধিকার ফিরে পেয়েছি।’

ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন একমত হয়েছেন যে, যুক্তরাজ্য একটি সুষ্ঠু ও ভারসাম্যযুক্ত ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •