মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
বনভূমিতে নির্মাণাধীন ঘর উচ্ছেদ করতে গিয়ে ফিরে এলো বন বিভাগের লোকজন। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার বিকেলে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ী বিটের জুমনগর অরলতলী নামক এলাকায় বনবিভাগের লোকজন অভিযানে যায়। তবে, নির্মাণাধীন ইটের ঘরটি উচ্ছেদ না করে ফিরে আসে তারা।
জানা গেছে, বনবিভাগের লোকজন উচ্ছেদ অভিযানে গেলে সেখানে দখলবাজরা তাদের সাথে সংঘর্ষে প্রস্তুতি নেয়। জুমনগরের অরলতলী এলাকার আবু ছিদ্দিকের ছেলে আব্দুর রশিদ এতে নেতৃত্ব দেন। যাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুব লীগের কিছু নেতা এসব জখলবাজিতে জড়িত। বনভূমি দখল ও বেচাবিক্রিতে স্থানীয় ফরেস্টার, হেডম্যান, জনপ্রতিনিধির হাতও রয়েছে বলে জানা গেছে। অবশ্য বিষয়গুলো সত্য বলেও জানান ফুলছড়ী বিট কর্মকর্তা আকরাম হোসেন।
বনবিটে কর্মরত কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযানে গেলে দখলবাজরা দেশীয় তৈরি অস্ত্রসস্ত্রসহ সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। পরে পরিস্থিতি দেখে তারা সেখান থেকে ফিরে আসে।
অপরদিকে বনবিভাগের লোকজন ফিরে যাওয়ার বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অনেকে জানিয়েছে, ফুলছড়ী বিটের নয়া পাড়া, জুমনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ইটের তৈরি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে জড়িতদের কাছ থেকে বনবিটের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এ কর্মকাণ্ড চলে আসায় এসব বনভূমি এখন পাকা ও আধাপাকা বাড়িঘরে পরিপূর্ণ।
এ বিষয়ে ফুলছড়ী বিট কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, নয়া পাড়া এলাকার নির্মাণাধীন অনেক কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নতুনভাবে কোন নির্মাণ কাজ চলছে খবর পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চলবে। জুমনগরের অরলতলী এলাকায় একটি ইটের নির্মাণাধীন ঘর উচ্ছেদে গেলে তাদের সাথে মুখোমুখি পরিস্থিতি হয়। তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি ও লোকবল সংকট ছিল, তাই অভিযান পুনরায় চলবে বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •