প্রেস বিজ্ঞপ্তি
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফরিদুল আলম বলেছেন, আরবী ও বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারলে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে কওমী মাদ্রাসা পড়ুয়ারা আরও ব্যাপকভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে; মাঝপথে ঝরে পড়লে চলবে না। আজ সমাজে তারাই টিকে আছে যারা বৈষয়িক দক্ষতা অর্জন করেছে।
তিনি ২৬ ডিসেম্বর দুপুরে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র রামু রাজারকুল আজিজুল উলুম এতিমখানার উদ্যোগে পুরস্কার ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণদের পুরস্কার বিতরণ ও এতিম নিবাসীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মাদ্রাসার পরিচালক ও আজিজুল উলুম এতিমখানা’র সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোহছেন‌‌‌ শরীফের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জনাব মোঃ ফরিদুল আলম দেশের এতিম -দুস্থসহ সব পর্যায়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেয়া বহুমুখী কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। এসময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। তাই সরকার কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে এম.এ-এর সমমর্যাদা প্রদান করেছেন। সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এতিম নিবাসীদের জন্য আগে যে খাদ্যভাতা ছিল তা অনেক বাড়ি দিয়েছেন। ফলে দেশের প্রতিটি এতিমখানায় এখন প্রত্যেক এতিম ৩ বেলা পেটভরে খেতে আর কোন বাধা নেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সফি উদ্দিন, কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের আহবায়ক আ.ন. ম হেলাল উদ্দিন, বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও বাংলাবাজার কেজি স্কুলের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল হক ও বাংলা ভিশনের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি মোরশেদুর রহমান খোকন, রামুর সমাজসেবা অফিসার আবু তালেব।
প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ এ মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষা ও সেবামূলক কার্যক্রম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মুফতি দেলোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শুরুতে আজিজুল উলুম এতিমখানা’র সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোহছেন‌‌‌ শরীফ প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং এতিম, দুঃস্থ ও সুবিধা বঞ্চিতদের কল‍্যাণে অবদান রাখায় তাদেরকে আজিজুল উলুম এতিমখানা’র পক্ষ হতে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন, শিক্ষার্থী হাফেজ নাজমুদ্দীন জিয়াদ। ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
শেষে গত ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মাদ্রাসায় আয়োজিত ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ক্বিরাত, ইসলামী সঙ্গীত, উপস্থিত বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিজয়ীদের হাতে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্ররা হলেন, আবু সুফিয়ান, নাজমুদ্দীন জিয়াদ, সাইফুল ইসলাম, নূরুল আবছার, আতাউল্লাহ, জাহেদুল আযম, কামরুল হাসান ও সাইফুল ইসলাম ৪র্থ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •