রিয়াজ উদ্দিন ,পেকুয়া :

পেকুয়ায় মিছিলে ইটপাটকেলসহ হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এ সময় ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে মহিলাসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছে। ঘটনার জের ধরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলার উপকুলবর্তী রাজাখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বকশিয়াঘোনায় আতংক বিরাজ করছে। ২৭ ডিসেম্বর (রবিবার) বিকেলে রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিয়াঘোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী শারমিন আক্তার (১৭), জিল্লু রহমান (২০), মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী শিফাত (১২), লবণ চাষী আলিমুল্লাহ (১৪), আলমগীর (২১), শাহ জাহান (১৬), লতিফ (১৭), আবদুল্লাহ (১৫), ছাত্রলীগ নেতা আবুল মোস্তফা (২০), যুবলীগ নেতা সাদেক (৩৫), ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী শেফা (১০), মাদ্রাসার শিশু ছাত্র দিদার (০৭), গৃহবধূ মুন্নী (৩২), জয়নাব বেগম (৫০), গাড়ী চালক মোস্তাক (৪২), ইমন (০৭), আবদু সাত্তার (৬৮), মো: রামিম (০৭) ও গৃহবধূ হালিা আক্তার (২৫)। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন বিকেলে রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিয়াঘোনায় স্থানীয় ইউপির ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মো: ইসমাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্টিত হয়েছে। এ সময় কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। দরবার সড়কের বকশিয়াঘোনা ইসমাইল মেম্বারের বাড়ির সামনে পৌছলে ব্যাপক ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এ সময় ওই ইউপি সদস্যের অনুগত লোকজন মিছিলকারীদের উপর প্রচন্ড ইটপাটকেল ছোঁড়ে। ছোঁড়া ইটপাটকেলের আঘাতে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা আহত হয়েছেন। এ দিকে ইউপি সদস্যের অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে ওই দিন বকশিয়াঘোনার গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। বিকেলে বকশিয়াঘোনা বায়তুল মামুর জামে মসজিদ মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। মসজিদের খতিব মাওলানা নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক মেম্বার আবদু রহমান, মাষ্টার ফিরোজ আহমদ, ব্যবসায়ী আবদুল মজিদসহ আরো অনেকে। বক্তব্যে স্থানীয় প্রবীণ আ’লীগ নেতা ফিরোজ আহমদ জানান, ইসমাইল মেম্বারের অপকর্মে আমরা অতিষ্ট হয়ে গেছি। আমাদের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে রাতে অনৈতিক কাজ করার সময় চেয়ারম্যান এসে তাকে দু’বার মারধর করেছে। ইয়াবা ও মাদক সেবন করে মহিলাদের উত্যক্ত করে। এর প্রতিবাদ করায় ওই মেম্বার এখন আমাদেরকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করিয়েছে। কিছু স্কুল,কলেজ ও প্রবাসীকে ডাকাত, জলদস্যু ও অস্ত্রধারী আখ্যা দিয়ে মিথ্যা প্রচারে ব্যস্থ হয়েছে। আমরা এ মেম্বারের অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে রাস্তায় নেমেছি। ইসমাইল মেম্বারের বড় বোন মাশুকা বেগম জানান, আমিও সবার ন্যায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করতে এসেছি। আমার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আবুল মোস্তফাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে এ মেম্বার। মহিলাদের সম্ভ্রমহানি হচ্ছে। লজ্জায় ও ভয়ে অনেকে অনেকদিন চুপ ছিল। আজকে শত শত মহিলাও তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। মর্তুজা বেগম নামক গৃহবধূ জানান, আমাকে ভিজিএফ এর কার্ড দেওয়ার কথা বলে রাতে বাড়িতে আসে। আমার স্বামী ছিলনা। বাকীগুলি আমি আর কি বলব। বয়োবৃদ্ধ নবী হোছাইন, আবু তাহের, আহমদ হোছাইন, ছৈয়দুর রহমান জানান, নির্দিষ্ট কিছু বাড়িতে মেম্বার ইয়াবা ও মদ সেবন করে। মসজিদ ও কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। আমরা মেম্বারকে সতর্ক করেছি। এরপর চেয়ারম্যানকেও অনেকবার বলেছি। আজকে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মিছিলে তার ক্যাডাররা হামলা চালায়। কলেজ ছাত্রী রুবি আক্তার, আরজু মনি, জোবাইদা জানান, মানুষের প্রতিবাদের সাথে সহমত পোষণ করতে আমরা স্কুল কলেজের মেয়েরাও মিছিলে অংশ নিয়েছি। তার অনুগত লোকজন মিছিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আমরা অনেকে আহত হয়েছি। ওয়ার্ড আ’লীগের সেক্রেটারী নাছির উদ্দিন, ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আরমান, সেক্রেটারী হাসান, যুবলীগ নেতা মিজান, ছাত্রলীগ নেতা জায়েদ, মিনহাজুল ইসলাম জানান, ইসমাইল মেম্বার আ’লীগের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভূয়া কমিটি ঘোষণা করে স্বঘোষিত ওয়ার্ড সভাপতি দাবী করে অন্যায় কাজে লিপ্ত রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। মিছিলে তার অনুগত আতিক, লুৎফর রহমান, খোরশেদ, নুরুল আবছার, যুবদল সভাপতি মিজানুর রহমান, ডিপজল, আবুল কাসেমসহ আমাদের উপর হামলা চালায়। ইটপাটকেল ছোঁড়ে। ওমান প্রবাসী আমির হামজা ও আমজাদ জানান, ইসমাইল মেম্বার মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ ছাপিয়েছে। আমরা থাকি প্রবাসে। করোনার কারণে দেশে আছি। আমির হামজা বাহিনী বলে প্রচার চালিয়েছে। মূলত একটি বাড়িতে রাতে না আসতে নিষেধ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এ আচরণ। তার অত্যাচারে শত শত মানুষ আজকে রাস্তায় নেমেছে। রেশমা, দিলোয়ারা, মুন্নী, শারমিন,হাছিনা,পারুল,জন্নাত আরা, মরিয়ম, শাকিলা, রুবি আক্তার, বুলবুলি, কুলসুমা, তছলিমা, ফেরদৌস, নয়ন মণি, আমিনা বেগমসহ মিছিলে অংশ নেয়া গৃহবধূরা জানান, আমরা অবিচার জুলুমের জবাব দিতে রাস্তায় নেমেছি। মহিলারাও মানুষ। এদেরকে ইজ্জতহানি ও সম্ভ্রমহানি করার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। মিছিলে ইটপাটকেল ছোঁড়ানো হয়েছে। রাজাখালী ইউপির সাবেক সদস্য আবদু রহমান বলেন, মানুষের সাথে ঐক্যমত হয়েছিলাম আমিও। তবে মিছিলে হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও গর্হিত কাজ। তবে এ ব্যাপারে রাজাখালী ইউপির ৬নং ওয়ার্ড সদস্য অভিযুক্ত ব্যক্তি ইসমাইল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তারা মিছিলের নাম দিয়ে মূলত আমার বাড়িতে হামলা চালায়। আমার পরিবারের ৩ জন আহত হয়েছে। রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর জানান, আমি সারাদিন শীতবস্ত্র বিতরণ নিয়ে পরিষদে ব্যস্থ ছিলাম। শুনেছি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানান, বিষয়টি এখনো আমরা জানিনা। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •