সালাহ্ উদ্দিন জাসেদ :

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ শহরের বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী পর্যন্ত বাইপাস সড়কের চার লেনের কাজ প্রায় শেষ করতে চলেছে। এতে সড়কটি বড় হওয়ায় বাইপাস রোডের দুই পাশে প্রতিদিন শতাধিক গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। ফলে বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী পর্যন্ত যানজট নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রাস্তা দখল করে যানবাহন রাখার কারণে পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতেও পারেন না। এই দুই সমস্যার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কক্সবাজারের বাসিন্দা ও বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমনে আসা পর্যটকরা। প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। গত কয়েকদিন আগেও এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় দু’জন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।

কলাতলী থেকে বাস টার্মিনাল সড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। ফলে কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্য যাত্রা দেওয়া যাত্রীরা সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন না। যাত্রী ও পথচারীদের অভিযোগ, সড়কের ওপর গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো, সড়কের দুই পাশে গাড়ি পার্কিং দূর্ঘটনা ও যানজট সৃষ্টির মূল কারণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থাকার স্বত্ত্বেও মহাসড়কের দুই পাশে বাস রাখা হচ্ছে। রাত কিংবা দিন প্রতি মূহুর্তে চোখে পড়ে কলাতলী থেকে বাস টার্মিনাল সড়কের দুই পাশে অবৈধ গাড়ি পার্কিং।

এ বিষয়ে “কক্সবাজার সোসাইটি” এর সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন জানায়, কক্সবাজার মহাসড়কে চার লেনের কাজ শেষের দিকে হওয়ায় রাস্তার পরিসর বড় হয়েছে। যার কারণে গাড়ি সঠিক জায়গায় পার্কিং না করে রাস্তার দু-পাশে পার্কিং করা হচ্ছে। ফলে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরকার হাজার কোটি টাকা খরচ করে মহাসড়ক নির্মাণ করলেও অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে এর সুফল পাচ্ছে না কক্সবাজার ও বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা লাখ লাখ মানুষ। রাস্তাটির উভয় পাশে অবৈধ দখলের কারণে চলাচলরত মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তাই কক্সবাজারের বাসিন্দা ও আগত পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

কক্সবাজারে আগত একাধিক পর্যটকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, বহু আশা আকাঙ্খা নিয়ে আমরা কক্সবাজার ভ্রমণে আসি। পর্যটন শহর কক্সবাজারে আমাদের দেখার অনেক কিছু আছে। আমাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের ক্ষেত্রে যানজট ও অব্যবস্থাপনার কারণে আমরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।
সুতরাং, আমাদের স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করার স্বার্থে এসব বিষয় গুলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।

স্টার লাইন বাসের এক চালক জানান, আমাদের গাড়ি রাখার জন্য কোথাও পার্কিংয়ের জায়গা নেই। তাই মোড়ে মোড়ে ও রাস্তার দু-পাশে গাড়ি রাখা হচ্ছে। শহরের বাসটার্মিনালে আমাদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় রাস্তার পাশে ও মোড়ে মোড়ে গাড়ি রাখতে হয়।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্ধার সাথে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যা হলে সড়কের পাশে পার্কিং করা যানবাহনে দায়িত্বরত স্টাফদের আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়, ওনাদের সাথে এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাক্ষাৎ ও বেড়ে যায় বলে জানান।
তারা আরো জানায়, প্রশাসন যদি অবৈধ গাড়ি পার্কিং উচ্ছেদ না করে, ইয়াবা ব্যবসার কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস ও চলাচলে আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত আমরা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছি।

এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর (কক্সবাজার) উপ-পরিচালক সোমেন মন্ডল এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় সু-নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারীদের নির্মূল করার চেষ্টা করছি। কলাতলী থেকে বাস টার্মিনাল বিভিন্ন এলাকা থেকেও আমরা মাদক কারবারীদের গ্রেপ্তার করছি ও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

দায়িত্বরত এক ট্রাপিক পুলিশ সদস্য জানান, কলাতলী থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত যে বাস গুলা পার্কিং করে রাখা হয় তাদের ওঠিয়ে দিলেও তারা কথা শুনেনা। একটা বাস ওঠিয়ে দিয়ে আসলে আরেকটা বাস এসে পার্কিং করে। আমরা উর্ধতন কর্মকর্তাদের রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত সমস্যাটি নিরসন করব।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার (কক্সবাজার) জনাব মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান পিপিএম এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করা হবে। এবং যারা অবৈধ গাড়ি পার্কিং করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •