নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাতৃজনিত রোগ ফিস্টুলা রোধে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে কাজ করে যাচ্ছে কক্সবাজারের নামকরা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার প্রতিষ্ঠান হোপ ফাউন্ডেশন। ইতোমধ্যে ফিস্টুলা রোধে সাড়া জাগানো সফলতা দেখিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে তাদের কাজের ব্যাপকতা আরো বেড়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার এবং বান্দরবান ও রাঙামাটিসহ চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম  বিভাগজুড়ে ফিস্টুলা রোধে নিরলস কাজ করা হচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকেকে আরো ফলপ্রসু করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট আরো গভীরভাবে সংযুক্ত করণে এক বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করেছে হোপ ফাউন্ডেশন।
বৃহস্পতিবারর (২৪ ডিসেম্বর) কক্সবাজার ইপিআই সেন্টার হলরুমে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কেএম জাহিদুজ্জামটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মোঃ মাহবুবুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন, বান্দরবানের সিভিল সার্জন অং চু প্রুই মার্মা।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,
পিন্টু কান্তি দাস,উপ পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা, মোঃআবুল কালাম,সহকারী পরিচালক,জেলা সমাজ সেবা,উপ পরিচালক সুব্রত বিশ্বাস, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর।
কর্মশালায় হোপ ফাউন্ডেশনের ফিস্টুলা কার্যক্রম ও সফলতা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন হোপ হাসপাতালের প্রধান ফিস্টুলা সার্জন নৃন্ময় বিশ্বাস।
কর্মশালায় কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মোঃ মাহবু্ুবুর রহমান বলেন, ‘ফিস্টুলা রোধে হোপ ফাউন্ডেশন যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা প্রশংসনীয়। ফিস্টুলা এমন একটি মারাত্মক রোগ। তাই জটিল রোগটি রোধে হোপ ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি ভাবে স্বাস্থ্যখাতে নিয়োজিত সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে ভুমিকা রাখতে হবে। হোপ ফাউন্ডশনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন ফিস্টুলা রোধের চেয়ে আক্রান্ত রোধে বেশি নজর দিতে হবে। কিভাবে এই জটিল রোগটি থেকে মায়েরা বাঁচতে পারে সে ব্যাপারে তাদের সচেতন করতে হবে এবং সেবা সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। সবাই জানি, সময় মতো ও সঠিক ভাবে সন্তান ডেলিভারি হলে ফিস্টুলা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তা সম্ভব হলেই মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।’
বান্দরবানের সিভিল সার্জন বলেন, ‘ফিস্টুলা আক্রান্ত ঠেকাতে সচেনতাই সবচেয়ে বেশি দরকার। এই কাজটি করতে পারে একমাত্র স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশেষ করে যারা মাতৃ স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন তাতের ভুমিকা বেশি। ফিস্টুলা বিষয়ে মায়েদের সচেতন করে তুলতে পারলে এই রোগ রোধ করা সম্ভব হবে।’
হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কেএম জাহিদুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ফিস্টুলা রোধে কাজ করে যাচ্ছে হোপ ফাউন্ডেশন। এই সময়ে একটি সাফল্যের মাইলফলক তৈরি করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ জেলার দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সাথে সকল স্তরের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের আরো বেশি সংযুক্ত করতেই এই আয়োজন।’ আয়োজনে সাড়া দেয়ায় সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার জেলার ৮উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা, বান্দরবান এর ৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা। এছাড়াও ডাঃ মোস্তাক আহমেদ, সিনিয়র ম্যনেজার, সেইভ দ্যা সিল্ড্রেন, বান্দরবান ও কক্সবাজারের UNFPA এর সিনিয়র কর্মকতা।

কর্মশালা সঞ্চালনা করেন হোপ ফাউন্ডেশনের সার্জন ফাহমিদা আকতার। তদারকিতে ছিলেন, হোপ ফিস্টুলা কো -অর্ডিনটের আজমুল হক।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের কৃতিসন্তান আমেরিকা প্রবাসী চিকিৎসক ইফতিখার মাহমুদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত হোপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রামুর চেইন্দায় একটি বড়মাপের হসপিটাল এবং জেলা কয়েকটি স্থানে বার্থসেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার পর উখিয়ার স্থাপন করে বড় ধরণের একটি ফিল্ড হসপিটাল। সেখানে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। করোনার প্রকোপ শুরু হলে এই হাসপাতালটিকে ৫০ বেডের একটি আইসোলেশন সেন্টারসহ ১০০ বেডে উন্নীত করা হয়। একইভাবে রামুর চেইন্দায়ও ৫০ বেডের একটি করোনা আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •